মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে তিনগুণের কাছাকাছি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। নির্ধারিত শয্যা পূর্ণ হওয়ার পর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডের মেঝেতেও বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। অতিরিক্ত রোগীর চাপে বিশেষ করে শিশু রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলা থেকে পাঁচতলা পর্যন্ত বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগীদের ব্যাপক চাপ। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঠান্ডা, জ্বর, কাশি, ডেঙ্গু, হাম, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই বিপুলসংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন শিশু রোগী এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩০ জন রোগী রয়েছেন। মেঝেতেও জায়গার সংকট তৈরি হওয়ায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ শিশুদের কান্না, স্বজনদের উদ্বেগ ও অতিরিক্ত মানুষের ভিড়ে হাসপাতালজুড়ে এক ধরনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে গরমের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে শিশু ও বয়স্ক রোগীদের কষ্ট আরও বাড়ে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে গিয়ে চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও স্বজন জানান, শয্যা না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। কোনো কোনো রোগীকে একাধিক তলা পর্যন্ত মেঝেতে জায়গা খুঁজে নিতে হচ্ছে। চিকিৎসাসেবা পাওয়ায় তারা সন্তুষ্ট হলেও শয্যার সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রোগীর স্বজন তানিয়া খাতুন বলেন, এত গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ থাকে না। শিশুদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে। অসুস্থ বাচ্চাকে নিয়ে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে। তারপরও কিছু করার নেই। বাচ্চাকে সুস্থ করতে হলে এই কষ্ট মেনে নিয়েই থাকতে হচ্ছে।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. মহোসিন উদ্দীন ফকির বলেন, হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে ২৫০টি। কিন্তু বর্তমানে রোগী ভর্তি রয়েছে ৭০০ জনেরও বেশি। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় প্রায় তিনগুণ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তারপরও আমরা রোগীদের শতভাগ সেবা দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে।
কেএম
