কালবেলা · সাধারণ
সবুজ মাঠে দুলছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন
১৬/১০/২০২৬

নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। মাঠের পর মাঠ ধানের সবুজ জোড়া পাতাগুলোতে সোনা রঙের হাসি। আশ্বিনের সোনালি রোদে সেই হাসি আরও ঝলমল করে ওঠে। মাঠজুড়ে সোনালি আমনের সবুজের সমাহার। শরতের শেষেই সবুজ ধানের বুক চিরে বের হচ্ছে ছড়া। ছড়াগুলো বড় হতেই দুধের মতো সাদা চালের দানা জমতে থাকে শীষে, আর বড় হয় কৃষকের স্বপ্ন। ফুরফুরে মনে ফসলের মাঠে ব্যস্ত থাকেন তারা। আবহাওয়া ও পরিবেশ অনুকূল থাকায় এ বছর ধানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে।
খুলনার দাকোপ উপজেলার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, শরতের মৃদু হাওয়ায় ভোর থেকে সরঞ্জাম হাতে কৃষক নেমে পড়ছেন ধান ক্ষেতে। ধানের চারা পরিচর্যা, কীটনাশক ও সার ছেটান ক্ষেতের মাঝেই। বিকেল হলে ঘরের টানে ছোটেন বাড়ির দিকে। মাঠে নারী কৃষকদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
এ সময় কৃষকেরা বলেন, ‘এবার ধান ভালো হুয়েছে। যেদিক তাকাবা দ্যাখবা- ধান আর ধান। ঝড়-বর্ষা না হলেই ধানে পুষিয়ে যাবে।’
সুতারখালী গ্রামের কৃষক প্রদীপ মিস্ত্রী বলেন, ‘১২ বিঘা জমিতে আমন চাষ করেছি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ১২ হাজার টাকা। তবে ক্ষেতে ধান দেখেছি ভালো হয়েছে। আশা করি প্রতি বিঘায় ১৭ থেকে ১৮ মণ করে ধান পাব।’
ধানের গোজ ভালো হওয়ায় ভীষণ খুশি পারচালনা গ্রামের কৃষক মফিজুর সানা। তিনি বলেন, ‘বর্গা নিয়ে ২ বিঘা জমিতে বিআর-২৩ জাতের ধান চাষ করেছি। ধানের ফলন বেশ ভালো। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার মাঠভর্তি ধান থাকবে।’
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৯ হাজার ২৩০ হেক্টর জমিতে এ বছর আমন চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বিআর-২৩, ১০, ১১, ব্রি-৩০, ৪৯, ৫১, ৫২, ৭২, ৭৩, ৭৬, ৭৭সহ স্থানীয় কিছু উচ্চমূল্য জাতের ধান চাষ করা হয়েছে। গত বছর আবাদ করা হয়েছিল ১৯ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯ হাজার ৩০০ হেক্টর জমির ফসল।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের অন্তত ২০ জন কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর আমন ফসল অনেকটাই ভালো। ভরা মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে ধানক্ষেতে বেশ সমস্যা হয়েছিল। তবে বিভিন্ন পদ্ধতিতে ক্ষেতে সেচ দেওয়ার মধ্য দিয়ে হঠাৎ বৃষ্টি নামার পরে সমস্যা উত্তরণে মাঠে মাঠে ধানের ফলন ভালো। এরপর কোনো সমস্যা দেখা গেলে উপজেলা কৃষি অফিসকে অবহিত করা হতো। কৃষি অফিস সঙ্গে সঙ্গে পরামর্শ দিয়ে সব ধরনের সমস্যার সমাধান করে দেয়।
দাকোপ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিউলী মজুমদার কালবেলাকে বলেন, দাকোপে এখন নানান ফসলে শস্যভান্ডারে পরিণত হয়েছে। চলতি আমন মৌসুমে গেল বাছরের তুলনায় এবার ফসলের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়ানোর জন্য আমরা নতুন নতুন জাতের ধান দিয়েছি কৃষকদের। আবহাওয়াজনিত কারণে ফসলের মাঠে পোকার উপদ্রব দেখা দিলে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রাথমিক অবস্থায় আলোক ফাঁদ ব্যবহারে উৎসাহিত করছি।
তিনি আরও বলেন, এই মৌসুমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে সার পেতে পারেন, সেজন্য বিক্রয়কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করা হচ্ছে। কৃক্রিম সঙ্কট তৈরি যাতে না হয়, এজন্য তিন ধাপে বিঘাপ্রতি ৬ কেজি করে সার দেয়ার জন্য ডিলারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শ্রমিক সংকট নিরসনের জন্য প্রযুক্তির যন্ত্র কিনতে চাষিদের বলা হচ্ছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗