Published on
:
2 min read
অর্ঘ্য ঘোষ, কীর্ণাহার
কেউ পরিচারিকা, কেউ রাঁধুনি। আবার কেউ ফুটপাতে আনাজ, চা বিক্রি করেন। এতদিন সামাজিক ভাবে তাঁদের নিচু নজরে দেখা হতো। সেই দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে বীরভূমের কীর্ণাহার নেড়াপোড়া মাঠ দুর্গোৎসব সমিতির প্রমীলা বাহিনী পরিচালিত লক্ষ্মীপুজো। ওই পুজোয় স্কুলশিক্ষিকা, অবস্থাপন্ন পরিবারের মহিলাদের সঙ্গে সঙ্গে আলপনা দেওয়া, ভোগ রান্না, অঞ্জলি দেন প্রান্তিক স্তরের মহিলারাও। পুজোর ওই কটা দিন একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন তাঁরা।
শুধু লক্ষ্মীপুজোই নয়, ওই পাড়ার দুর্গাপুজোতেও দেখা যায় একই চিত্র। স্থানীয় সূত্রে খবর, পাড়ায় প্রায় ২৫০টি পরিবারের বসবাস। বড় সংখ্যক পরিবারই হতদরিদ্র। পাড়ায় দুর্গাপুজো ছিল না। অন্য পাড়ায় পুজো দেখতে যেতেন, যা মোটেই সুখকর ছিল না। বিশেষত পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো কার্যত ব্রাত্য থেকেছে। তাই সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুরুষদের উদ্যোগে গত বছর থেকে নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলে পাড়ায় দুর্গাপুজো চালু হয়েছে। সেই দেখাদেখি মহিলারাও ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’–এর টাকা জমিয়ে গত বছর লক্ষ্মীপুজোর আয়োজন করেন।
রাজনৈতিক পালাবদলের পরে সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিবর্তে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ চালু করেছে। টাকার পরিমাণও করা হয়েছে দ্বিগুণ। মহিলারা পুজোর বাজেট বাড়িয়ে দ্বিগুণ করেছেন। স্বভাবতই তাদের মধ্যে এখন চরম ব্যস্ততা। হেঁশেল সামলে রীতিমতো কোমরে কাপড় গুঁজে চলছে মণ্ডপসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পঙ্ক্তিদের তোড়জোড়।
স্কুলশিক্ষিকা সারদা ঘোষ, বহ্নিশিখা মণ্ডলদের পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে পরিচারিকা মায়া দাস, উন্নতি রায়, রাঁধুনি শিবানী কর্মকার, আরতি কর্মকার, আনাজ বিক্রেতা কল্পনা দাস, মেনকা দাসদের। তাঁরা বলেন, ‘কাজের নিরিখে এতদিন আমাদের নিচু নজরে দেখা হতো। গত বছর একসঙ্গে পুজো করতে এসে সেই ভেদাভেদ দূর হয়েছে। এখন আমরা একটি পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছি।’
অন্যদিকে বহ্নিশিখাদের কথায়, ‘গত বছর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা যে যেমন পেরেছিলেন দিয়েছিলেন। সেটা দিয়ে কোনও রকমে পুজো চালু হয়েছিল। এ বার অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা দ্বিগুণ হয়েছে। চাঁদাও বেশি উঠেছে। পাড়ার লোকেদের নিয়ে খিচুড়ি ভোগের আয়োজন করা হয়েছে।’ খুশির বাঁধ ভেঙেছে ষষ্ঠ শ্রেণির পড়ুয়া ওম পাল, রূপসা সাহাদের। আর কী বলছেন পুরুষরা? ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল, সুপ্রকাশ ঘোষদের মতে, ব্রাতজনেদের কথা ভেবে তাঁরা দুর্গাপুজো চালু করেছিলেন। মেয়েরাও একই উদ্দেশে লক্ষ্মীপুজো করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁরা পাশে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন।
