হাঁটতে-চলতে ভারসাম্য হারান? ওঠাবসা করার সময়ে পিঠ-কোমরের ব্যথা ভোগায়? ঘুম থেকে ওঠার সময়ে পায়ে টান ধরে? এই সমস্যাগুলি কমবেশি সকলেরই হয়। শরীরের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে ব্যথাবেদনা বাড়ে। অল্প হাঁটলে বা দৌড়োলে হাঁপ ধরে যায়। এই সমস্যার সমাধান করতে পারে সহজ এক ব্যায়াম। তার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টী। ব্যায়ামটি আয়ত্তে এলে শরীরের ভারসাম্য যেমন বাড়বে, তেমনই ওজনও কমবে। পেশির শক্তি বৃদ্ধি হবে। ক্লান্তি ও দুর্বলতা কেটে যাবে অচিরেই।
দুই সন্তানের মা শিল্পার বয়স ৫০ পেরিয়েছে। তবে এখনও তাঁর নির্মেদ শরীর, ত্বকের দীপ্তি, ফিটনেস অনুরাগীমহলে আলোচিত। শিল্পা জানিয়েছেন, তাঁর মতো ফিটনেস পাওয়া কঠিন কিছু নয়। সে জন্য যন্ত্রপাতি নিয়ে ভারী ব্যায়াম করারও প্রয়োজন নেই। কেবল সহজ কিছু ব্যায়াম নিয়মিত অভ্যাস করতে হবে। তার মধ্যে একটি হল ‘নো-হ্যান্ড ফ্লোর রাইজ় এক্সারসাইজ়’ বা ‘বডি মবিলিটি এক্সারসাইজ়’। একটি ব্যায়াম অভ্যাসেই সারা শরীরের পেশির জোর বাড়বে বলেই দাবি করেছেন শিল্পা।
ব্যায়ামটির পদ্ধতি কেমন?
প্রথমে মাটিতে যোগাম্যাট পেতে বসুন। ম্যাট না থাকলে খালি মেঝেতেই বসতে পারেন, তবে খেয়াল রাখতে হবে সেই জায়গা যেন পিছল না হয়।
দুই পা সামনের দিকে ছড়িয়ে, দুই হাত শরীরের পাশে রাখুন। এ বার এক পায়ের উপর অন্য পা তুলে দিন। তার পর দুই পা ক্রস করে বাঁ পায়ের গোড়ালি ডান নিতম্বের কাছে ও ডান পায়ের গোড়ালি বাঁ নিতম্বের কাছে নিয়ে যান।
দুই হাত শরীরের পেছনে ভাঁজ করে রাখুন বা বুকের উপর ক্রস করে রাখুন। যাতে ওঠার সময়ে কোনও ভাবেই হাতে ভর দিতে না হয়।
ওই ভঙ্গিতে থেকেই পায়ের জোর ব্যবহার করে ধীরে ধীরে শরীরের উপরের অংশ সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ওঠার চেষ্টা করুন।
শরীরের ভারসাম্য পুরোপুরি বজায় রেখে সোজা হয়ে দাঁড়ান। তার পর আবার একই ভাবে মেঝেতে বসে পড়ুন, হাতে ভর না দিয়েই।
এই ব্যায়ামটি এক একটি সেটে ৩ বার করে করতে হবে। শুরুতে সমস্যা হবে, ধীরে ধীরে আয়ত্তে চলে আসবে।
কাদের জন্য ভাল?
হাঁটাচলা বা দৌড়োনোর সময়ে যাঁদের শরীরের ভারসাম্য থাকে না বা পড়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, তাঁরা ব্যায়ামটি করলে উপকার পেতে পারেন।
স্থূলত্ব রয়েছে, পেট ও পায়ে মেদ বেশি জমেছে, তাঁরা ব্যায়ামটি করার চেষ্টা করলে তাড়াতাড়ি মেদ ঝরবে।
নিয়মিত ব্যায়ামটির অভ্যাসে ভুঁড়ি কমবে। যাঁরা ভুঁড়ি কমানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন, তাঁদের জন্য ব্যায়ামটি কার্যকর হতে পারে।
দীর্ঘক্ষণ ডেস্কে বসে কাজ করার কারণে পিঠ, কোমর ও পায়ের ব্যথা, পেশিতে টান ধরে যাওয়া বা পা ফুলে যাওয়ার সমস্যা যাঁদের বেশি, তাঁরা ব্যায়ামটি করলে উপকার পেতে পারেন।
তবে হাঁটুতে ব্যথা, রক্তচাপের সমস্যা থাকলে বা ভার্টিগোর কারণে মাথাঘোরার রোগ থাকলে, ব্যায়ামটি অভ্যাসের আগে প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিতে হবে।
