ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলার মুখে সৌদি আরবকে রক্ষায় মিসর প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি। শনিবার তিনি বলেছেন, হুথিদের সঙ্গে লড়াই তীব্র আকার ধারণ করায় যদি সৌদি আরবের পক্ষ থেকে মিসরের প্রতি ‘‘অনুরোধ করা হয়’’ তাহলে রিয়াদকে রক্ষা করতে তার দেশ প্রস্তুত রয়েছে।
গত জুলাইয়ে পুনরায় ইয়েমেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা বারবার সৌদি আরবের জ্বালানি কেন্দ্র এবং রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। এর মধ্যে গত সপ্তাহে হুথিদের এক হামলায় সৌদিতে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।
হামলার পাশাপাশি বাব আল-মানদেব প্রণালিও অবরোধ করে রেখেছে হুথি বিদ্রোহীরা; যা সৌদির জ্বালানি রপ্তানির ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে। অন্যদিকে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নিজস্ব অবরোধ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন
মিসরীয় সামরিক একাডেমির এক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেওয়ার সময় শনিবার সিসি বলেন, আঞ্চলিক সংঘাতে মিসর কোনও ভূমিকা পালনের সুযোগ খুঁজছে না। সৌদি আরব ক্ষতিগ্রস্ত হবে কিংবা তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে আর কায়রো তা নীরব দর্শকের মতো মেনে নেবে; এটা ভাবা যায় না।
তিনি বলেন, মিসর অবশ্যই বাদশাহ সালমান এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে আপনাদের রক্ষা কিংবা সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
মিসরের এই প্রেসিডেন্ট বলেন, সৌদিতে সৈন্য মোতায়েনের জন্য মিসরীয় সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন এবং তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘‘আমাদের কাছে অনুরোধ করা হলে’’ প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার জন্য আইনপ্রণেতারা জরুরি অধিবেশনে বসবেন।
সিসি বলেন, আমি কারও বিরুদ্ধে লড়াই কিংবা আক্রমণ করার কথা বলছি না। আমরা কেবল আত্মরক্ষার কথা বলছি।
গত মাসে মিসর সফরে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সিসি বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ লোহিত সাগরে অবাধ ও নিরাপদ নৌচলাচলের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান।
হুথিদের সঙ্গে সংঘর্ষ কেবল সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং জ্বালানি রপ্তানির জন্যই ঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং মিসরের জন্যও এটি হুমকি। কারণ লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে তা সুয়েজ খাল থেকে আসা তাদের রাজস্ব আরও কমিয়ে দিতে পারে; যা দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার প্রধান উৎস।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাতি গত মাসে বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর হুথিরা বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা শুরু করায় সুয়েজ খাল থেকে মিসরের প্রায় ১১ বিলিয়ন (১ হাজার ১০০ কোটি) ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও মিসর গত আগস্টে সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা মক্কা চুক্তিতে যোগ দেয়নি। কারণ কায়রো সাধারণত আঞ্চলিক সামরিক জোটে অংশগ্রহণের চেয়ে কূটনীতিকে প্রাধান্য দেয়।
সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মিসরের প্রধান সমর্থক। ২০১৩ সালে ইসলামপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটের সময় মিসরকে আর্থিক সহায়তা দেয় রিয়াদ।
সূত্র: এএফপি।
এসএস
