আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, প্রস্তাবটি জুনে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলোর ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের আরাঘচি বলেন, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করা হলে চুক্তি করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনা যেতে পারে।
ইরানের প্রস্তাব সম্পর্কে জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। আলোচনায় পারমাণবিক ইস্যুও রয়েছে।
আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া শর্তগুলো নতুন কিছু নয়; এগুলো জুনের সমঝোতা স্মারকেই ছিল। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে জানাননি, যুক্তরাষ্ট্রকে কোন কোন শর্ত পূরণ করতে হবে।
গত ১৮ জুন ১৪ দফার ওই সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সমঝোতার অন্যতম শর্ত ছিল—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। একই সঙ্গে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের মধ্যে বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ও এতে উল্লেখ করা হয়।
এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার এবং ভবিষ্যতে প্রণালির নৌ চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করার কথা ছিল ইরানের।
তবে পরবর্তী সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে আবার হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হলে সমঝোতাটি কার্যত ভেস্তে যায়।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বৈশ্বিক জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশের তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হতো। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়।
ইরান দাবি করেছে, অনুমোদিত রুটের বাইরে চলাচল করায় হরমুজে কিছু জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজসংলগ্ন ইরানের বিভিন্ন এলাকায় হামলা এবং নৌ-অবরোধ জোরদার করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে ইরানের নতুন প্রস্তাবকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন করে গতি এসেছে।
