গত ১৯ অক্টোবর (সোমবার) জিম্বাবুয়ে-আফগানিস্তান ম্যাচের দিকে বাংলাদেশের সমর্থকদের নজর ছিল আলাদা করে। সবাই চেয়েছিল, সেদিন যেন জিম্বাবুয়ে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দেয়। তাহলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে যেকোনো ব্যবধানে বাংলাদেশের একটি জয়ই যথেষ্ট হতে পারত ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে। কিন্তু বাস্তবে হলো ঠিক উল্টোটা। আফগানিস্তানের কাছে ১৫৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে বসেছে জিম্বাবুয়ে। আর তাতেই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার পথ হয়ে গেছে অনেক বেশি কঠিন।
আজ ২১ অক্টোবর (বুধবার) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশকে জিততেই হবে! তবে শুধু জয় যথেষ্ট নয়। ফাইনালে যেতে হলে জয়ের পাশাপাশি মেলাতে হবে নেট রান রেটের কঠিন সমীকরণ।
প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হারের খেসারত এখনো দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। তাই শেষ ম্যাচে শুধু ভালো খেললেই হবে না, জিততে হবে বড় ব্যবধানে।
পয়েন্ট টেবিলের হিসাব কী বলছে?
পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে রয়েছে আফগানিস্তান। এক ম্যাচে জয়, ২ পয়েন্ট এবং +৩.১৬০ নেট রান রেট নিয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে। জিম্বাবুয়েকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে তাদের অবস্থান এখন বেশ শক্ত। দুই নম্বরে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। দুই ম্যাচে একটি জয় ও একটি হার নিয়ে তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। আফগানিস্তানের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর তাদের নেট রান রেট নেমে এসেছে -০.৫৯০-এ।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অবস্থান তলানিতে। এক ম্যাচে হার, কোনো পয়েন্ট নেই এবং নেট রান রেট -১.৯৮০। এই অবস্থান থেকে ফাইনালে যেতে হলে আফগানিস্তানের বিপক্ষে শুধু জয় নয়, নেট রান রেটেও জিম্বাবুয়েকে পেছনে ফেলতে হবে।
কী করতে হবে বাংলাদেশকে?
বাংলাদেশের সামনে এখন একটাই পথ, আফগানিস্তানকে হারানো। তবে কীভাবে জিতছে বাংলাদেশ, সেটাই হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
প্রথমে ব্যাটিং করলে
বাংলাদেশ যদি আগে ব্যাট করে , তবে বড় সংগ্রহ গড়তে হবে এবং আফগানিস্তানকে আটকে রাখতে হবে তুলনামূলক কম রানে।
ধরা যাক, বাংলাদেশ ২৫০ রান করল। সে ক্ষেত্রে আফগানিস্তানকে ২০৯ বা তার কম রানে আটকে রাখতে পারলে ৪১ রানের জয় আসবে। অর্থাৎ, ব্যাটারদের বড় স্কোর গড়ার পাশাপাশি বোলারদেরও নিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব। দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে আফগানিস্তানের রান তোলার গতি থামিয়ে দিতে হবে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করলে
বাংলাদেশ আগে বোলিং করলে সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠবে। কারণ, তখন শুধু লক্ষ্য তাড়া করলেই চলবে না, নির্দিষ্ট ওভারের মধ্যেও ম্যাচ শেষ করতে হবে।
আফগানিস্তান ২০০ রান করলে বাংলাদেশকে ৪০.৩ ওভারের মধ্যে লক্ষ্য ছুঁতে হবে। ২৫০ রানের লক্ষ্য হলে জিততে হবে ৪১.৩ ওভারের মধ্যে। আর আফগানিস্তান ৩০০ রান তুললে বাংলাদেশকে ৪২.২ ওভারের মধ্যে ম্যাচ শেষ করতে হবে।
অর্থাৎ, আফগানিস্তান যত বড় সংগ্রহ গড়বে, বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ তত বাড়বে। রান তোলার গতি ধরে রাখার পাশাপাশি উইকেটও হাতে রাখতে হবে। শুরুতেই উইকেট হারালে এই সমীকরণ মেলানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশের সামনে কাজটা যে সহজ নয়, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে ক্রিকেটে অসম্ভব বলে কিছু নেই। নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে বাংলাদেশ এখনো ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদ: ত্রিদেশীয় সিরিজ
৪ ঘন্টা আগে
২০ অক্টোবর ২০২৬
২০ অক্টোবর ২০২৬
