নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার মোগরাপাড়ায় অবস্থিত বাংলার স্বাধীন সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি মধ্যযুগীয় বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।
ঐতিহাসিক পানাম নগরীর কাছাকাছি অবস্থিত এই সমাধি সোনারগাঁয়ের সমৃদ্ধ অতীতের স্মৃতি বহন করছে। স্থানীয় তথ্য ও সমাধির পরিচিতিফলকে দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ ছিলেন বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহের ছেলে এবং সুলতানি আমলের উল্লেখযোগ্য শাসকদের একজন। ফলকে তার মৃত্যুর সাল ১৪০২ খ্রিষ্টাব্দ উল্লেখ করা হয়েছে।
মোগরাপাড়ায় তাকে সমাহিত করা হয় এবং সমাধিটি আনুমানিক ১৪১০ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত হয়েছিল বলে সেখানে উল্লেখ রয়েছে। একসময় সোনারগাঁ বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
এই জনপদের ইতিহাসে বিভিন্ন শাসনামলের উত্থান-পতন, স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের নানা অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে। গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি সেই অতীতের একটি উল্লেখযোগ্য স্মারক।
সমাধির পূর্ব পাশে সুলতানের প্রধান বিচারপতি কাজী সিরাজউদ্দিনের কবর রয়েছে বলেও পরিচিতিফলকে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এ কারণে স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন হওয়া সত্ত্বেও সমাধিটির ইতিহাস সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের অনেকের ধারণা সীমিত। স্থানীয় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে স্থাপনাটির নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রচার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য তথ্যসমৃদ্ধ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ শুধু অতীতের স্মৃতি রক্ষা নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক পরিচয় পৌঁছে দেওয়ারও একটি মাধ্যম।
যথাযথ সংরক্ষণ ও প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হলে সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্যচর্চা ও ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিআলো/আমিনা