আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত ৫০ বছরে প্রায় ৬ কিলোমিটার নিজের গতিপথ থেকে সরে এসেছে গঙ্গা। বর্তমানে গঙ্গা ও ফুলাহার নদীর দূরত্ব কেবলমাত্র ৭৫০মিটার। আগামী ছয়-সাত বছরেই গঙ্গা ও ফুলহার নদী মিশে যাওয়ার সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। তা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ডুবে যেতে পারে বিস্তীর্ণ এলাকা। রবিবার আকাশপথে মালদার ভূতনি ও রতুয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা পরিদর্শনের পর এমনই আশঙ্কার কথা জানালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
তিনি জানান, শুধু গঙ্গা নয়, ফুলহার ও কোশী নদীর পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারব না। আমরা পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছি। অর্থের কোনও সমস্যা নেই। ঝাড়খণ্ড ও বিহারের সঙ্গে সমন্বয় করে সকলের সম্মতিতে ভাঙন রোধের কাজ করা সম্ভব।” আগামী ২৭ তারিখে এ বিষয়ে দিল্লিতে একটি বৈঠকও রয়েছে বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর গঙ্গার ভাঙনে মালদার মানিকচকের ভূতনি, ইংলিশবাজার, রতুয়া এবং কালিয়াচক-৩ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নদীগর্ভে বিলীন হয় বসতভিটে ও চাষের জমি। এ বছরও বন্যা ও ভাঙনের জেরে বিপর্যস্ত হয়েছেন বহু মানুষ। গঙ্গার গতিপথ পরিবর্তন এবং ফুলহারের সঙ্গে সম্ভাব্য সংযোগের আশঙ্কায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থায়ী ভাঙন রোধে আন্তঃরাজ্য সমন্বয়ের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে মালদার নদীপাড়ের বাসিন্দারা।
৩ সেপ্টেম্বর কেশরপুর রিং বাঁধ ভেঙে গঙ্গার জল ঢুকেছিল ভূতনির তিন গ্রাম পঞ্চায়েতের লোকালয়ে। ঘর ভেঙেছে, জমি ডুবেছে, সর্বস্বান্ত হয়েছে বহু পরিবার। ঘটনার কয়েক দিনের মধ্যেই প্রায় ২৫ হাজার বন্যা ও ভাঙন দুর্গতের হাতে আর্থিক সাহায্য—ভূতনির বন্যা-ভাঙনের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলেই দাবি প্রশাসনের।
মথুরাপুরের প্রশাসনিক সভামঞ্চ থেকেই বন্যায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্তদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের ৯০ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ। অর্থাৎ প্রশাসনের দরজায় দিনের পর দিন ঘুরে বেড়ানো নয়, ক্ষয়ক্ষতির হিসাবের পর দ্রুতই দুর্গতদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে গেল টাকা।
