মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হোক আগামীর লক্ষ্য, বললেন জেডআরএফের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে
নিজস্ব প্রতিবেদক
সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সবাই মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে পারলে মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। সুন্দর বাংলাদেশের যে স্বপ্ন আমরা দেখছি, তা বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এ কাজের সূচনা করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।
রোববার রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়। ফাউন্ডেশনের ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা’ স্লোগানটি তিনি ২০০৩ সালে লিখেছিলেন। দীর্ঘ ২৭ বছরের পথচলায় সংগঠনটি মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে। সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’—এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট তারেক রহমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি চিন্তা করেছিলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁর বাবা কী কী কাজ করেছিলেন। ক্ষমতায় এসে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষক, শিল্প, শিক্ষা এবং নারীসমাজের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, কৃষকেরা দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি। শহীদ জিয়া কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, দেশের শিল্পের ভিত্তি শক্তিশালী করতে চেয়েছিলেন এবং শিক্ষার আলো মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। একই সঙ্গে নারীদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেও কাজ করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৯ সালে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হলেও তখন বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল না। রাজনীতির বাইরে থেকেও কীভাবে মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় এবং শহীদ জিয়ার জনকল্যাণমূলক কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগগুলো মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ফাউন্ডেশন কাজ করছে। কৃষকদের মধ্যে শস্যবীজ বিতরণ এবং গ্রামের অসহায় ও খেটে খাওয়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষরোপণেও কাজ করছে সংগঠনটি। ঢাকায় কয়েক লাখ গাছ রোপণ করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, রাজনীতি মানুষের জন্য। তবে রাজনীতির পাশাপাশি সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। সেই কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতেই ২৭ বছর আগে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
ফাউন্ডেশনের সদস্য ও কর্মীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে সংগঠনটির কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং এর অনেক সদস্যকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
মানবসেবায় অর্থের চেয়ে সদিচ্ছাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনেক বিত্তশালী মানুষ রয়েছেন। তাঁরা নিজেদের সম্পদের সামান্য অংশও যদি সমাজ, মানুষ, জীবজন্তু ও প্রকৃতির কল্যাণে ব্যয় করেন, তাহলে অনেক মানুষের জীবনে স্বস্তি ও আনন্দ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি বলেন, সব সময় অর্থ বা সামর্থ্যই মুখ্য নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের জন্য কাজ করার ইচ্ছা। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের প্রত্যেক সদস্যের মধ্যে মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর প্রবল ইচ্ছা রয়েছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, যত দিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকা যাবে, তত দিন মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই সবার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।
অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. সরকার মাহবুব আহমেদ শামীমের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক ও উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিমা রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারসহ সংগঠনের সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ১৮ অক্টোবর একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসেবে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাঁর জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনটি ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা এনে দেবে সচ্ছলতা, দেশে আসবে স্বনির্ভরতা’ স্লোগান ধারণ করে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সংগঠনটি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবা, বিনামূল্যে ঘর নির্মাণ, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি বিতরণ, সেলাই মেশিন সরবরাহ, শীতবস্ত্র বিতরণ, সামাজিক বনায়ন, শস্যবীজ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, সেচ পুনর্বাসন, শিক্ষা বৃত্তি এবং ভার্চুয়াল বিজ্ঞান মেলার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।

