রংপুরে জমি নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুই পক্ষের বিরোধের জেরে প্রতিমা বিসর্জন হয়নি। বুধবার (২১ অক্টোবর) দশমীর দিন গভীর রাত পর্যন্ত তুমুল বাগবিতণ্ডা ও দু’পক্ষের সড়ক অবরোধ হয়। এ নিয়ে আপোশ-মীমাংসার চেষ্টাও ব্যর্থ হয়। পরে আজ দুপুর পর্যন্ত প্রতিমা বিসর্জন করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর ঠিকাদারপাড়া মহল্লায় মোটর মেকানিক দশরথ চন্দ্র তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় ৫০ বছর ধরে বসবাস করছেন। আগে সেখানে তারা পারিবারিকভাবে পূজা পালন করতেন। কিন্তু বিগত তিন বছর ধরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী পক্ষ সেখানে সর্বজনীন দুর্গাপূজার আয়োজন করে আসছিল। এবার দুর্গাপূজার আগে জমির মালিক দশরথ চন্দ্র ও তার পরিবার নিজেদের জায়গায় পূজা করতে আপত্তি জানালে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞাপন
পরিস্থিতি সামাল দিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এবারের মতো সেখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে এবং পূজা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের পর ওই জমিতে সীমানা প্রাচীর দিয়ে মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। প্রশাসনের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিলেন জমির মালিক দশরথ ও তার পরিবার। কিন্তু পরবর্তীতে বুধবার বিকেলে পূজা উযযাপন কমিটির একটি পক্ষ জমিটি নিজেদের দখলে নিতে দুটি প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বাকি দু’টি স্থায়ীভাবে রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিকেল পাঁচটা থেকে বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ট্রাক নিয়ে প্রস্তুত থাকলেও পূজা কমিটির সভাপতি প্রাণকৃষ্ণ গোস্বামী ও সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী প্রতিমা না সরানোর পক্ষে অবস্থান নেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ, বিজিবি ও সেনাসদস্যরা। তারা কয়েক দফা মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও পূজা কমিটির নেতারা প্রতিমা সরাতে রাজি হননি। ফলে রাত ৩টা পর্যন্ত সেখানে সড়ক অবরোধ ও হট্টগোল চলতে থাকে।
বিজ্ঞাপন
এ ব্যাপারে পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমল গোস্বামী জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে পূজা উদযাপন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও পূজা করতে চান। জমিটির মালিক তারা না হলেও এটি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার তোফায়েল আহাম্মেদ বলেন, পুলিশ কমিশনারের হস্তক্ষেপে শান্তিপূর্ণ পূজার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এখন তারা বারবার অবস্থান পরিবর্তন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে।
জিতু কবীর/এফএ
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
