অধিকৃত গাজা উপত্যকায় দীর্ঘদিনের ইসরায়েলি বিমান হামলায় ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে গতকাল উদ্ধার করা ৭৫ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ গণ-জানাজা শেষে সমাহিত করা হয়েছে। উদ্ধার করা এই মরদেহগুলো এতদিন বিমান হামলায় ধসে যাওয়া বিভিন্ন ভবনের ইটের নিচে চাপা পড়ে ছিল।
স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, গাজা সিটির একটি নির্দিষ্ট আবাসিক এলাকা থেকেই এই ৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, পর্যাপ্ত উদ্ধারকারী সরঞ্জামের অভাবে গাজাজুড়ে ধসে পড়া বিভিন্ন ভবনের নিচে এখনো প্রায় আট হাজার ফিলিস্তিনির মরদেহ চাপা পড়ে আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টানা তিন বছর ধরে চলা এই সংঘাতের সার্বিক মানবিক ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র সরকারি হিসাবের চেয়েও বহুগুণ বেশি হতে পারে।
এদিকে অবরুদ্ধ গাজার পাশাপাশি অধিকৃত পশ্চিম তীরেও সহিংস পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটেছে। পশ্চিম তীরের একটি গ্রামে স্থানীয় জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে যাওয়া ইউরোপীয় কূটনৈতিক দলের ওপর হামলা চালিয়েছে উগ্র বসতি স্থাপনকারীরা।
বেলজিয়াম, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডের কূটনীতিকসহ প্রতিনিধি দলে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং ফ্রান্সের এক মেয়র এই হামলার শিকার হন। এ সময় কয়েকজনকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি প্রতিনিধি দলের ব্যবহৃত যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। এই ধরনের পরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ বাধার কারণে ওই অঞ্চলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের কৃষি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে সংঘটিত এসব সহিংসতার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণের দৃশ্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের সহিংসতা রোধে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর তাগিদ দিয়েছে ওয়াশিংটন।
