ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের রূপান্তরিত কন্যা আনায়া বাঙ্গারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ভারতীয় ক্রিকেটার শ্রেয়াস আইয়ার, অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলকে নিয়ে একটি মজার প্রশ্নের মুখোমুখি হন আনায়া।
‘কিল, ম্যারি, হুকআপ’- এই তিনটি বিকল্পের মধ্যে তিন ক্রিকেটারকে বেছে নিতে বলা হলে নিজের পছন্দের কথা জানান তিনি। তার সেই উত্তর ঘিরেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
বিজ্ঞাপন
কৃষ্ণানক আত্রের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আনায়াকে প্রশ্ন করা হয়, শ্রেয়াস আয়ার, অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলের মধ্যে কাকে ‘খুন’, কাকে ‘বিয়ে’ এবং কার সঙ্গে ‘হুকআপ’ করতে চাইবেন তিনি। জবাবে আনায়া বলেন, ‘শ্রেয়াস আইয়ারকে খুন, অভিষেক শর্মাকে বিয়ে এবং শুভমান গিলের সঙ্গে হুকআপ।’
প্রশ্নটি ছিল প্রচলিত একটি বিনোদনমূলক খেলা, যেখানে কাল্পনিক পরিস্থিতিতে তিনজনকে তিনটি ভিন্ন বিকল্পে বেছে নিতে হয়। আনায়ার উত্তরটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
ক্রিকেটে ফিরতে চান আনায়া
সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান আনায়া নিজেও ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত। আগে মুম্বাইয়ের হয়ে ছেলেদের বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলেছেন তিনি। ২০২২ সালে শুরু হওয়া তার লিঙ্গান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চলতি বছরের মার্চে জেন্ডার-অ্যাফার্মিং সার্জারি করান।
এখন আবারও ক্রিকেটে ফেরার পরিকল্পনা করছেন আনায়া। এ জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার কথাও ভাবছেন তিনি। পেশাদার নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগ পেতে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের নীতিমালার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আনায়া।
বিজ্ঞাপন
চলতি মাসের শুরুতে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিসিআইকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার পদক্ষেপ অনুসরণ করে ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে আনায়া বলেন, ‘বিসিসিআই যদি অস্ট্রেলিয়া যা করেছে, তা অনুসরণ করতে পারে, তাহলে সেটি দারুণ হবে।’
লিঙ্গান্তর প্রক্রিয়ার পর অনলাইনে হয়রানির শিকার হওয়ার বিষয়েও কথা বলেছেন আনায়া। তার ভাষ্য, ‘তারা আমার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যায়নি।’
বিজ্ঞাপন
ট্রান্সজেন্ডার ক্রিকেটারদের নিয়ে বিতর্ক
নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নেওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার অলরাউন্ডার মারিজানে কাপ।
নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাপ লেখেন, ‘একেবারেই হাস্যকর, এটি কোনোভাবেই অনুমোদন করা উচিত নয়!’
বিজ্ঞাপন
এ সময় তিনি নারী ক্রিকেটের টুর্নামেন্ট উইমেন্স বিগ ব্যাশ লিগের (ডব্লিউবিবিএল) আনুষ্ঠানিক অ্যাকাউন্টকেও ট্যাগ করেন। তবে কাপের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ না হয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন আনায়া। তার মতে, নারী ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ার আগে তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে বিস্তৃত পরীক্ষা করা হয়েছে।
সম্ভাব্য শারীরিক সুবিধা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে আনায়া জানান, ম্যানচেস্টার ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব স্পোর্ট তার শারীরিক সক্ষমতা নিয়ে ১২ সপ্তাহের একটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। হরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি নেওয়ার এক বছর পর তার শরীরের ক্রীড়াসংক্রান্ত সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয় বলে জানান তিনি।
আনায়ার দাবি, পরীক্ষার ফলাফলে তার শারীরিক পরিমাপ সিসজেন্ডার নারী অ্যাথলেটদের পরিসরের মধ্যে পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘অন্যায্য সুবিধার বিষয়টি বিবেচনা করলে, আমার অবস্থানের পক্ষে ইতিমধ্যেই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে।’
বিজ্ঞাপন
তার মতে, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অন্তর্ভুক্তি, ন্যায্যতা এবং নারী খেলাধুলার মর্যাদা বজায় রাখার বিষয়ে নীতিমালা তৈরি করেছে। আনায়া জানান, তিনি ওই নির্দেশিকাগুলো মেনে চলছেন।
সাক্ষাৎকারে নিজের শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত কথা বলেছেন আনায়া। তার দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তার শরীরে আর টেস্টোস্টেরন তৈরি হচ্ছে না এবং বর্তমানে তার টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রতি লিটারে ০.৬ ন্যানোমোল।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও দাবি করেন, হরমোনের পরিবর্তনের কারণে তার হাড়ের ঘনত্ব কমেছে, পেশির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে এবং শারীরিক সহনশীলতাও আগের তুলনায় কমেছে। আগের মতো ব্যায়াম করতে পারছেন না বলেও জানান তিনি।
আনায়ার ভাষ্য, ‘যখনই কোনো নিয়ম বা নীতিমালা তৈরি করা হয়, তখন প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত। কারণ, সব ট্রান্স নারী অ্যাথলেটের ক্ষেত্রেই যে অন্যায্য শারীরিক সুবিধা থাকবে, তা নয়।’
ক্রিকেটে ফেরার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন আনায়া। তবে নারী ক্রিকেটে তার অংশগ্রহণের সুযোগ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট বোর্ডের নীতিমালা ও যোগ্যতার শর্তের ওপর।
একদিকে শ্রেয়াস আইয়ার, অভিষেক শর্মা ও শুভমান গিলকে নিয়ে দেওয়া তার মজার উত্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের সুযোগ এবং এ ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
আইএইচএস/
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
