বহিষ্কার, শোকজ, কমিটি বিলুপ্তি ও আইনি পদক্ষেপ—কোনো কিছুতেই থামছে না বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। সরকার গঠনের পর দলীয় পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে দখল, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং হামলা-ভাঙচুরসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠছে তাদের বিরুদ্ধে। এতে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ছে বিএনপির হাইকমান্ড।
বিজ্ঞাপন
নেতাকর্মীদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে একের পর এক সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ে অনিয়ম-অপরাধের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় দলটির শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সতর্ক করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও দখলদারদের বিএনপিতে কোনো জায়গা নেই, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
গত রোববার সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি নেতাকর্মীরা যাতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে নিজ নিজ এলাকায় নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়াতে বলেন তিনি। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া এবং অপরাধে জড়িতদের প্রশ্রয় না দিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।
তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কঠোর বার্তার মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ সামনে আসছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরীর মতে, তৃণমূলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, নেতাকর্মীদের ওপর দলের হাইকমান্ডের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। তার মতে, কয়েকজনকে বহিষ্কার করে এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়, রাজনীতিতে অর্থের অপব্যবহার ও অসৎ চর্চা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
সরকার দলের বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেককে নিজ নিজ এলাকায় বিশেষ নজর রাখতে হবে, যাতে দলের কোনো নেতাকর্মী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়েন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ চাঁদাবাজি বা দখলদারিত্ব করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানান তিনি। দলের সব পর্যায়ে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত একজন সংসদ সদস্য জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বলেন, নিজ নিজ এলাকায় কেউ যাতে চাঁদাবাজি করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। দলের কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে প্রশ্রয় না দিয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে।
বৈঠকে দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকার ও দলের কার্যক্রম আরো গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংসদের ভেতরে ও বাইরে সংসদ সদস্যরা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং সরকারের কার্যক্রমের সুফল কীভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেবেন, সে বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী দিকনির্দেশনা দেন।
তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগের মধ্যেই সম্প্রতি একজন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করতে হয়েছে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত ৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের হাতে গণমাধ্যমকর্মীরা মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চার নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করে। আরো চার নেতার বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত এবং তিন নেতাকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বহিষ্কার, গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘রাজনীতি করা হয় ভোটে জেতার জন্য। কিন্তু ভোটে জিতে গেলে অনেকেই জনগণের কথা ভুলে যান। কারণ নির্বাচনে জিততে টাকার প্রয়োজন হয়। এই অর্থের জোগান যারা দেন, পরবর্তী সময়ে সেই টাকা তুলে আনতে গিয়ে রাজনীতিকদের একাংশ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে যেসব কর্মকাণ্ড দেখা যাচ্ছে, সেগুলোও তারই প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, গুটিকয়েক নেতাকর্মীকে শুধু বহিষ্কার করলেই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে না। এ ধরনের অনিয়ম ও অপরাধ বন্ধ করতে হলে রাজনীতিকে পরিচ্ছন্ন করতে হবে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে অর্থের অপব্যবহার ও অসৎ চর্চা বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএনপি সূত্র জানায়, তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে শুদ্ধি অভিযান চলছে। কেউ অপরাধ করে পার পাবে না। একই সঙ্গে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে সরকারকে বিব্রত করবে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা
রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশে প্রশাসন চার নেতার ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিল করেছে। সাময়িকভাবে ছাত্রত্ব বাতিল হওয়া নেতারা হলেন রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলকর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলাম।
এছাড়া রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, ছাত্রদলকর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করা হয়েছে।
মাছের প্রকল্পে বিষ প্রয়োগ
রাজবাড়ীর পাংশায় এক প্রবাসীর মাছের প্রকল্পে বিষ প্রয়োগ করে কয়েক লাখ টাকার মাছ নিধন, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে বিএনপি নেতা কালাম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ৮ অক্টোবর এ ঘটনা সামনে আসে। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কালাম যশাই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
জানা গেছে, গত বুধবার গভীর রাতে নিভাকেষ্টপুর গ্রামে সিঙ্গাপুরপ্রবাসী মো. আসাদ মণ্ডলের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে দুর্বৃত্তরা। এতে পুকুরে থাকা পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকার মাছ মারা যায়। এর আগে প্রকাশ্য দিবালোকে মাছের প্রকল্পে হামলা চালিয়ে পুকুরের চারপাশের ঘের ভেঙে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।
একই দিন কুমিল্লার বুড়িচংয়ের বাকশীমূল ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান তুহিনকে সংগঠনের নিয়ম, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়।
রাজধানীতে চাঁদাবাজি, বিএনপি নেতা আটক
গত ৫ অক্টোবর চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানা বিএনপির ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মিজানুর রহমান ওরফে স্বপনকে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-২ (এসআরবি-২)। মিজানের বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে গার্মেন্টস থেকে চাঁদাবাজি, নিউরো সায়েন্স হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট পরিচালনা, আগারগাঁওয়ের নতুন রাস্তা এলাকার ফুটপাত থেকে চাঁদা আদায় এবং শেরেবাংলা নগর থানার পাশের সমবায় বস্তিতে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
গত ৬ অক্টোবর মুন্সীগঞ্জে এক সাংবাদিকের বাবাকে অপহরণ করে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রাজীব হাসান অপুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের রাজীব হাসান অপুকে প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
গত ৬ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে চাঁদাবাজি, সরকারি সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনরত পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে উগ্র আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে জামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শুক্কুর আলীকে দলের সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ উল্লেখ করে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
একই দিন নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চাঁদাবাজি ও দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কৈলাটি ইউনিয়ন বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক জুয়েল ভূঁইয়াকে বহিষ্কার করা হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ খায়েরের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত ৫ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় এক সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীর প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দর্শনা পৌর যুবদলের সদস্য মো. রাকিবুল হাসান ব্রাইটকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ২২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ মহানগর কৃষক দলের সদস্যসচিব সাইফুদ্দিন মোহাম্মদ ফয়সলকে পদ্মা অয়েল ডিপোর কর্মীদের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকেও পরে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এ ছাড়া গত ২১ জুন চাঁদাবাজির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ছেলে ও জেলা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম সজীবকে আটক করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মুচলেকা নিয়ে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় যুবদল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
বহিষ্কারেও বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থামছে না
বিএনপি সূত্র জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত দলীয় বিশৃঙ্খলার দায়ে প্রায় সাত হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে সরকার গঠনের পরও দলের একটি অংশের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সামনে আসছে। এতে সরকারের ভালো কাজগুলোও বিতর্কিত হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা। এ সময়ে কয়েকশ’ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সম্প্রতি সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত। প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এমরান সালেহ প্রিন্স আমার দেশকে বলেন, গুটিকয়েক ব্যক্তির অপরাধের দায় বিএনপি নেবে না। দলীয় আদর্শের বাইরে গিয়ে কেউ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার ও দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যারা কর্মকাণ্ড চালাবে, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাড্ডাকাণ্ডের পর কমিটি বিলুপ্ত
তৃণমূলে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সংগঠনবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে একের পর এক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। কয়েক দশক ধরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানটিতে হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের নাম আলোচনায় আসে। ঘটনাটি দেশজুড়ে সমালোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পদত্যাগ করতে হয়।
ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ও ভাবমূর্তি রক্ষায় বিএনপির অবস্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল এবং ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে বিএনপি, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
সংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে শৃঙ্খলাবিরোধী, অনৈতিক ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে কমিটি বিলুপ্তির সব সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনার সরাসরি সম্পর্ক দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার পর সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গে দলের কোনো কোনো নেতাকর্মীর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার ও সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে তা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। দলের নাম ব্যবহার করে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করলে সাধারণ মানুষের কাছে পুরো দলকেই জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়। বিশেষ করে দখল ও চাঁদাবাজির মতো অভিযোগের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় জড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
