চীনের সুজৌ শহরে চলছে ফুটবল ওয়ার্ল্ড কাপ। এটি ফিফার আসর নয়, ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্পোর্টস ফেডারেশনের (আইএসএফ) ব্যানারে স্কুলপড়ুয়াদের বিশ্বকাপ। ৩১টি দেশ ও অঞ্চলের ৫১ দল মাঠে নেমেছে। তালিকায় বাংলাদেশের নামও আছে। আর সেই নামেই পাঁচ ম্যাচে ১৪৬ গোল হজম করে শিরোনামে এসেছে লাল-সবুজ। বড় প্রশ্ন, লাল-সবুজ জার্সি গায়ে আসলে কারা খেলছেন?
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এই আসরের জন্য কোনো দলই পাঠায়নি। বাফুফে মিডিয়া ম্যানেজার সাদমান সাকিব কালবেলাকে বলেছেন, ‘কোন দল ওই আসরে খেলছে—সে সম্পর্কে বাফুফে কাছে কোন তথ্য নেই। কারণ সাধারণত দেশের কোন প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে যাওয়ার আগে বাফুফে-কে অফিসিয়ালি অবহিত করে, টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে থাকে। এই আসরের ক্ষেত্রে তেমনটা হয়নি।’
বাফুফের মিডিয়া বিভাগের ধারণা, ‘সম্ভবত বাংলাদেশ থেকে কোন দল যায়নি। চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা ছাত্রদের মধ্যে থেকে একটি দল তৈরি করে বাংলাদেশ নামে এই আসরে খেলানো হতে পারে।’
গোলের হিসাবটা শুনলে স্কোরবোর্ডের জন্যও মায়া হয়। ‘সি’ গ্রুপে প্রতিপক্ষ ছিল চেক প্রজাতন্ত্র, জার্মানি আর মরক্কো। সূচনা চেকদের বিপক্ষে ২৭-০ গোলের হারে। এরপর জার্মানির কাছে ৩৫-০, শেষ ম্যাচে মরক্কোর কাছে ৩৩-০। তিন ম্যাচে ৯৫ গোল হজম, ম্যাচপ্রতি গড় প্রায় ৩১.৬৭। গ্রুপ পর্বের এই দুঃস্বপ্ন শেষ হলেও স্বস্তি মেলেনি। রাউন্ড অব ৩২-এ আলজেরিয়ার কাছে ৪০-০ গোলে হারতে হয়েছে। ৩২ থেকে ২৫তম স্থান নির্ধারণী প্লে-অফে হাইতির কাছে হার ১১-০ গোলে। ৫ ম্যাচের হিসাব মেলালে দাঁড়ায় ২৭, ৩৫, ৩৩, ৪০ ও ১১, মোট ১৪৬। গড়ে ম্যাচপ্রতি ২৯.২ গোল।
একই আসরে বেনিনের কাছে ২৭ গোল খেয়ে ভারতও কম আলোড়ন তোলেনি। কিন্তু গোল হজমের উদারতায় বাংলাদেশ নামধারী দলটি ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে, আলজেরিয়ার বিপক্ষেই খেয়েছে ৪০। একটা খটকা থেকে যায়। আইএসএফের সরকারি বুলেটিনে বাংলাদেশ একটি ডেলিগেশন হিসেবে নথিভুক্ত, ছেলেদের একটি দল নিয়ে। অর্থাৎ কেউ না কেউ নাম লিখিয়েছেন, অথচ বাফুফে সেই খবরই জানে না। ২০২৪ সালের উদ্বোধনী আসরেও বাংলাদেশের নামে একটি মেয়েদের দল তালিকায় ছিল। সেই নামও কি ফেডারেশনের অজান্তেই এসেছিল, তা আইএসএফের নথি থেকে বোঝার উপায় নেই।
ইন্টারন্যাশনাল স্কুল স্পোর্টস ফেডারেশন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) স্বীকৃত, স্কুল ক্রীড়ার বৈশ্বিক সংগঠন। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা সাধারণত অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সীদের নানা প্রতিযোগিতা আয়োজন করে। আসর স্কুল ফেডারেশনের নীতিমালা মেনে হলেও খেলা নিয়ন্ত্রিত হয় ফিফার আইনে।
