নাটোরের বাগাতিপাড়ায় মাদকের অপব্যবহার ও বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের মাদক থেকে দূরে রাখা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা এবং সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. সুমনী আক্তার। সভাপতিত্ব করেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তার বলেন, “যে মুখে মা ডাক, সে মুখে মাদক নয়। মাদক একটি শিক্ষার্থীর জীবন, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে পরিবার, শিক্ষক ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “কন্যাসন্তান কোনো বোঝা নয়, কন্যাসন্তান সম্পদ। তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বাল্যবিবাহ একটি কিশোরীর স্বপ্ন ও সম্ভাবনাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবকসহ সমাজের সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সভায় বক্তারা বলেন, মাদকের অপব্যবহার শুধু একজন শিক্ষার্থীর জীবন বিপর্যস্ত করে না, বরং একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। মাদকাসক্তির কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয় এবং তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। তাই মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতি যথাযথ নজরদারি ও সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
বক্তারা আরও বলেন, বাল্যবিবাহের কারণে কিশোর-কিশোরীদের শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ ব্যাহত হয়। শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সভায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ ও পরিবেশবান্ধব গাছ তুলে দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার বার্তা দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইসরাত জাহান পিয়া, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হক, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রোকনুজ্জামান, উপজেলা প্রকৌশলী অনুপ কুমার, পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শরীফ মোহাম্মদ জামিউর রহমান, অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. ফিরোজ আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় মাদক ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠন এবং প্রতিটি শিক্ষার্থীর শিক্ষার অধিকার ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এমএ
