আজকাল ওয়েবডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো সীমান্ত লাগোয়া অঞ্চলে অদ্ভুত এক প্রাণীর দেখা মেলার দাবি ঘিরে সম্প্রতি তীব্র কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় কল্পবিজ্ঞান সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’-এর ভয়ঙ্কর দানব ‘ডেমোগর্গন’-এর সঙ্গে প্রাণীটির চেহারার মিল রয়েছে বলে অনেকে আলোচনা শুরু করেছেন। তবে নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়া কিছু অস্পষ্ট ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও প্রাণীটির অস্তিত্ব সম্পর্কে এখনও কোনও নির্ভরযোগ্য বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ মেলেনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মেক্সিকোর বিতর্কিত সাংবাদিক ও স্বঘোষিত ইউএফও গবেষক হাইমে মাউসান প্রথম এই দাবি সামনে আনেন। তাঁর মতে, মেক্সিকোর হুয়ারেজ ভ্যালির খামার এলাকাগুলোতে প্রাণীটি মুরগি, মোরগ ও খরগোশ শিকার করছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশ করা কিছু ছবিতে সাদা রঙের একটি প্রাণীকে দীর্ঘ হাত-পা ও লম্বা লেজসহ দেখা যায়। মাউসানের দলের দাবি, এটি শেয়াল, রাকুন কিংবা বনবিড়ালের মতো স্থানীয় পরিচিত কোনও বন্যপ্রাণীর সঙ্গে মেলে না। সেখানে দেখা যাওয়া একটি ইটের দেয়ালের সঙ্গে তুলনা করে তাঁদের অনুমান, মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত প্রাণীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ছয় ফুট হতে পারে, যার অর্ধেকটাই লেজ। মাউসান দাবি করেছেন প্রাণীটি মানুষের মতো সোজা হয়ে হাঁটতে পারে, যদিও প্রকাশিত ভিডিও বা ছবিতে এর কোনও স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বরাবরের মতোই এই ঘটনাটিকে আরও চমকপ্রদ করতে মাউসান একে ভিনগ্রহের বা সমান্তরাল অন্য কোনও মাত্রা (ইন্টারডাইমেনশনাল) থেকে আসা বুদ্ধিমান প্রাণী বলে তত্ত্ব হাজির করেছেন। তিনি স্থানীয় এক কিশোরের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, প্রাণীটিকে একটি মুরগির মাথা কামড়ে ধরে গাছে চড়ে পালাতে দেখা গেছে। এমনকি ভয়ে কিছু বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তবে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে এই সব দাবির কোনও মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মেক্সিকোর হুয়ারেজ সিভিল প্রটেকশন কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এমন কোনও অদ্ভুত প্রাণী দেখা যাওয়া বা গবাদিপশু নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তাঁদের কাছে কোনও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আসেনি। এমনকি সীমান্তের ওপারে টেক্সাসের এল পাসো পুলিশও জানিয়েছে, ওই এলাকায় অস্বাভাবিক কোনও ঘটনা বা পশুর মৃত্যুর তথ্য তাদের রেকর্ডে নেই। ফলে ঘটনাটি আদৌ কোনও নতুন প্রাণীর উপস্থিতি নাকি স্রেফ রটনা, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তাছাড়া, তথ্যটির মূল প্রচারক হাইমে মাউসানের অতীত ইতিহাসও এই দাবিকে যথেষ্ট সন্দেহের মুখে ফেলেছে। ২০২৩ সালে তিনি মেক্সিকোর কংগ্রেসে তথাকথিত 'ভিনগ্রহী মমি' প্রদর্শন করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিলেন, যা পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষায় মানুষ ও পশুর হাড়, আঠা এবং কাগজ দিয়ে তৈরি ভুয়ো পুতুল বলে প্রমাণিত হয়। এর আগেও তিনি একটি কাঠবিড়ালি বানরের ট্যাক্সিডার্মি করা দেহাবশেষকে ভিনগ্রহের প্রাণী বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। ফলে সাম্প্রতিক এই 'ডেমোগর্গন' আতঙ্ককেও অনেক বিশেষজ্ঞ ভিত্তিহীন কল্পনা ও সস্তা প্রচার পাওয়ার চেষ্টা হিসেবেই উড়িয়ে দিচ্ছেন।
