মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১২ ডলার ৫৫ সেন্টে পৌঁছায়। গত ১৮ মে-এর পর এটি সর্বোচ্চ দাম।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ ডলার ৬ সেন্ট বা ২ দশমিক ৮১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলার ৮৮ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ২ ডলার ৪ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ ডলার ১৯ সেন্ট হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামো ও সমুদ্রপথে হামলার কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিশ্ববাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
তেলবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান পিভিএমের বিশ্লেষক তামাস ভার্গার মতে, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজে হামলা এবং সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোয় হুথি বিদ্রোহীদের হামলা তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। সংঘাত দ্রুত প্রশমিত না হলে তেলের দাম উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে।
সৌদি আরবে হামলার পর রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো ধাহরানে অবস্থিত সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে দূর থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। এদিকে দেশটিতে কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন থেকে কিছু কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
বুধবার সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এসব হামলায় দাম্মামের একটি বেসামরিক বিমানবন্দরে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। দেশটির একটি তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় আরও দুজন নিহত হন।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনী উত্তর উপসাগরে তেল পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত চারটি জাহাজে হামলার দাবি করেছে। এতে জাহাজগুলোতে আগুন ধরে যায় বলে জানানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালীর পশ্চিমে আরও তিনটি জাহাজ মাইনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে বলেও দাবি করেছে বাহিনীটি।
লিবিয়াতেও তেল উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। দেশটির হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরে তেল পরিবহনের একটি পাইপলাইনের ভালভ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় তেল করপোরেশনের প্রধান।
এদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দেশটির জরুরি হিটিং অয়েল মজুতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ঋণ হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে, তেল ও গ্যাস আমদানিতে মিথেন নিঃসরণসংক্রান্ত বিধি কার্যকরে তিন বছর বিলম্বের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।
এদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। বুধবার রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠক করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রেমলিনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করতে সম্মত হয়েছেন পুতিন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও দ্রুত আলোচনা শুরুর আশা প্রকাশ করেছেন।
