রোহিত হোসেন রনি: যশোরে চুরির অপবাদ দিয়ে বৃদ্ধ লিয়াকত আলীকে আটকে রেখে মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আল আমিন শান্ত (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া মোড় থেকে তাঁকে আটক করেন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন। শান্ত কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) লিয়াকত আলীকে মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে রাতদিন নিউজে ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরপর বুধবার রাতে অভিযুক্ত শান্তকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। অন্য অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লিয়াকত আলীর লিখিত অভিযোগে শান্ত ছাড়াও আরও চারজনের নাম রয়েছে। তাঁরা হলেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী মিন্টু (৫০), যশোর জিয়া সাংস্কৃতিক পরিষদের সভাপতি মো. লতা আরিফ (৪৮), লেবুতলা এলাকার আলাউদ্দিন (৪৫) এবং কিসমত নওয়াপাড়া এলাকার মবিন (৩৮)। অভিযোগে মিন্টুকে ঘটনার নেপথ্যে ইন্ধনদাতা এবং অন্যদের মারধর ও হুমকির ঘটনায় জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর সকালে যশোর সদর উপজেলার কিসমত নওয়াপাড়া হাইওয়ে মডেল টাউন এলাকায় প্রতিবেশী মিন্টুর নির্মাণাধীন ভবনের সামনে থেকে ঠিকাদার ও মিস্ত্রিদের অনুমতি নিয়ে এক কড়াই বালু নেন লিয়াকত আলী। পরে তা ফেরত দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, ওই দিন বেলা ১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি লিয়াকত আলীর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে নির্মাণাধীন ভবনের চারতলায় আটকে রাখেন। সেখানে বাঁশ দিয়ে তাঁর মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
লিয়াকত আলীর দাবি, মারধরের কারণে তাঁর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছেন না। এ ছাড়া তাঁর চোখেও আঘাত লেগেছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্মাণসামগ্রী চুরির অপবাদ দিয়ে তাঁর কাছে এক লাখ ৭৩ হাজার টাকা, ১৫০ বস্তা সিমেন্ট ও ১০ টন রড ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করা হয়। এসব দাবি পূরণ না করলে তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার পর নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দেন লিয়াকত আলী।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে রাতদিন নিউজে প্রতিবেদন প্রকাশের পর পুলিশের তৎপরতায় বুধবার রাতে অভিযুক্ত শান্ত আটক হন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “শান্তকে আটক করা হয়েছে। অপর আসামিদের ধরতে পুলিশ মাঠে রয়েছে।”
