আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৈদ্যুতিন যানের ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু সমস্যা একটাই। চার্জ ফুরোলেই ফোনের মতোই চার্জে দিতে হয় এই বৈদ্যুতিন যানগুলিকে। সময় লাগত ঘণ্টার পর ঘণ্টা। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হয় ইলেকট্রিক বাসগুলি। বিশেষ করে বাসগুলি চার্জ করার জন্য ভারী ও বড় আকারের তারের প্রয়োজন হত। এবার সেই সমস্যার সমাধানে সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য ইটিএইচ জুরিখ-এর স্পিন-অফ কোম্পানি, উইন্ডাকশন সংস্থা। তারা এবার বাজারে নিয়ে এসেছে একটি ওয়্যারলেস চার্জিং ব্যবস্থা। তাতে তার ছাড়াই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমের বাস চার্জ করা যাবে।
জানা গিয়েছে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তিটি বাসে যাত্রী ওঠানামার সঙ্গে সঙ্গেই সক্রিয় হয়ে ওঠে। যদি এই প্রযুক্তিটি জনগণের মধ্যে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়, তাহলে এই প্রযুক্তিই বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। সাধারণত গাড়ি বা বাসকে কোনও তার ছাড়া চার্জ করার ক্ষেত্রে রাস্তায় লাগানো প্লেট ও গাড়ির মধ্যে বেশ কিছুটা দূরত্ব থাকে। এর ফলে দ্রুত চার্জ হয় গাড়িটি।
এই সমস্যার সমাধানেই 'উইন্ডাকশন' সরাসরি বাসের টায়ারের ভেতরেই চার্জিং কয়েল বসিয়ে দেবে। এই অনন্য প্রযুক্তিই চার্জিং প্লেটকে গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করে, যার ফলে তৈরি হয় একটি ম্যাগনেটিক ফিল্ড। বাসটি প্লেটের উপর থামলেই টায়ারের ভেতরের কয়েলগুলি সরাসরি ব্যাটারি চার্জ করা শুরু করে দেয়। এই প্রযুক্তির ফলে বাসের চাকা বিদ্যুৎ পরিবাহী প্লেটের সংস্পর্শে থাকে। এর ফলে শক্তি অপচয় ১০%-এরও বেশি কমে।
সাধারণ টায়ারগুলিকে মজবুত করতে স্টিলের বেল্ট লাগাতে হবে। ফলে এগুলি ওয়্যারলেস প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত নয়। সেই সমস্যা দূর করতে সংস্থাটি একটি নতুন ধরনের স্টিল-মুক্ত টায়ারও তৈরি করেছে। এই টায়ারগুলি লাগালেই বাসটিকে তার ছাড়াই চার্জ করা সম্ভব হবে। এছাড়াও, চলন্ত অবস্থায় চার্জ করার সুবিধা জন্য বাসগুলোতে ভারী ব্যাটারিও লাগাতে হয় না। পাশাপাশি, ছোট আকারের ব্যাটারি কেনার খরচ ও ওজন কমবে।
এই প্রযুক্তি জুরিখ এয়ারপোর্ট এবং জুরিখ ওয়েরলিকনের মধ্যে ২৪টি স্টপের একটি রুটে পরীক্ষামূলক ভাবে এই প্রযুক্তি চালু করা হয়েছিল। গোটা যাত্রাপথে বাসটিকে মাত্র দু'বার চার্জ দিতে হয়েছিল। জানা গিয়েছে, দিনে ১৬ ঘণ্টা চললে বাসগুলিকে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে চার্জ করতে হতে পারে। যার ফলে ডিপোতে গোটা রাত ধরে একটানা পাঁচ ঘণ্টা চার্জ দিতে হবে না। ফলে পাওয়ার গ্রিডের উপর চাপও কমবে। পাশাপাশি, খবর ২০২৮ সাল থেকেই এই প্রযুক্তিকে গণপরিবহনের ক্ষেত্রেও পরীক্ষামূলক ভাবে ব্যবহার করা হতে পারে।
