ঢাকা: রাজধানীতে গত ১৩ অক্টোবর স্কুল ক্যাম্পাসে বাসচাপায় নিহত হয়েছে শিশু শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সায়ন (৮)। নিহতের ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন নিহতের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম। এ ঘটনায় বাসচালকের গাফিলতিকে দায়ী করেছেন তিনি।
নিহত শিশু শাহরিয়ার সায়ন রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের জলসিঁড়ি শাখায় দ্বিতীয় শ্রেণির ‘সি’ শাখার শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত সায়নের বাবা সাজু আহমেদ সেলিম ঢাকার খিলক্ষেতের বটতলা এলাকার বাসিন্দা। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। মা শারমিন খাতুন গৃহিণী। দুই সন্তানের মধ্যে সায়ন ছিল বড়। ছোট মেয়ে শাহরিনের বয়স চার বছর।
ছেলের মৃত্যু সম্পর্কে সেলিম বলেন, ‘প্রতিদিন সায়নের ক্লাস শেষ হয় বেলা তিনটায়। আর ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে স্কুল বাস ছাড়ে। আমি তখন ধানমন্ডিতে আমার অফিসে ছিলাম। স্কুল থেকে ৩টা ৪০ মিনিটে আমাকে ফোন দিয়ে দ্রুত স্কুলে যেতে বলা হয়। মোটরসাইকেল নিয়ে ৪০ মিনিটের মধ্যে আমি স্কুলে পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে যেটা দেখলাম তা দেখার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। বাসের নিচে আমার ছেলে সায়ন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। স্কুল ড্রেস পরা, গলায় আইডি কার্ড ঝুলানো। আমার দুনিয়া যেন অন্ধকার হয়ে গেলে। সেখানে পুলিশ ও সেনা সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে সন্তানের মরদেহ বুঝে নিই। পরে স্কুল ব্যাগ, স্কুল ড্রেস আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘স্কুলের অধ্যক্ষের সহায়তায় আমি স্কুলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চেক করি। সেখানে দেখা যায়, একটি বাস ক্যাম্পাস থেকে বের হচ্ছে। তবে বাসে কোনো সহকারী ছিল না। আমার ছেলে হয়তো সে সময় খেলাধুলা করছিল। বাসটি বামে বাঁক নিতে ছেলেটা বাম পাশের চাকার নিচে চাপা পড়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এতবড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ২০টির মতো বাস আর কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। সেখানে এত বড় অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না। চালক বাস চালাচ্ছেন ক্যাম্পাসের ভেতরেই, অথচ সেখানে তার সহকারী নেই। চালকই বা কিভাবে বাস চালাচ্ছেন যেখানে হাজারো শিশু রয়েছে, তিনি একবারও সাবধান হলেন না। এখানে স্কুল কর্তৃপক্ষ, বাস চালকের গাফিলতি রয়েছে।’
সেলিম বলেন, ‘ছেলের মরদেহ ময়নাতদন্তে কাটাকটি হবে, মামলা চালানোর ঝামেলা, চাকরি করি, সময়ের অভাব, সবমিলিয়ে আমি আইনি ঝামেলায় জড়াতে চাই না। আবার দেশের আইনের প্রতিও আমার আস্থা নেই। তাই লিখিত দিয়ে সন্তানের মরদেহ নিয়ে এসেছি। তবে সেই লিখিতপত্রে আমি দাবি জানিয়েছি, এ ঘটনা তদন্ত করে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে যেন স্কুল কর্তৃপক্ষ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে স্কুল চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে নিহত শিশু সায়নের মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে পৌঁছায় তার স্বজনরা। পরে সকাল ৯টার দিকে জানাজার নামাজ শেষে তাকে রামচন্দ্রপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত সায়নের চাচা সোহেল রানা বলেন, ‘আগামী নভেম্বর মাসের ১২ তারিখ সায়নের জন্মদিন। এদিন তার ৯ বছর পূর্ণ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ছেলেটা এভাবে চলে যাবে ভাবতে পারছি না। সবাই খুব ভেঙে পড়েছে। সায়নের বাবা-মাকে স্বান্তনা দিতে পারছি না।’
