ফুটবল মাঠে অসামান্য সাফল্য, ধারাবাহিক নৈপুণ্য এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কল্যাণে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসি। ক্রীড়া বিভাগে ২০২৬ সালের বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই ফুটবলার। আগামী শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ঐতিহাসিক কাম্পোয়ামোর প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফেলিপে ও রানি লেতিসিয়া।
মেসির জন্য এই স্বীকৃতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুরস্কারটির ৪৬তম আসরে তিনি ক্রীড়া বিভাগের সম্মাননা পাচ্ছেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারই প্রথম কোনো ফুটবলার এককভাবে এই পুরস্কার অর্জন করছেন। এর আগে বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মান দেওয়া হলেও মেসির এই অর্জন ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। বিজ্ঞান, সাহিত্য, শিল্পকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যোগাযোগ ও মানবিকতা এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই সম্মাননা প্রদান করে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ফাউন্ডেশন। প্রতিটি পুরস্কারের সঙ্গে রয়েছে শিল্পী হুয়ান মিরোর নকশা করা স্মারক ভাস্কর্য, সনদ, একটি ব্যাজ এবং ৫০ হাজার ইউরো অর্থমূল্য।
গত ৩ জুন ওভিয়েদোতে পুরস্কারের বিচারকমণ্ডলী মেসিকে ক্রীড়া বিভাগের বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে। তাঁর অসাধারণ ফুটবল প্রতিভা, দীর্ঘদিনের সাফল্য, মাঠে শৃঙ্খলাপূর্ণ আচরণ, বিনয় এবং দলীয় খেলায় অবদানের পাশাপাশি মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডকে গুরুত্ব দিয়েছে বিচারকমণ্ডলী। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে তাঁর দীর্ঘদিনের দাতব্য উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে।
মেসির ফুটবলজীবন সাফল্যে ভরপুর। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অসংখ্য শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পর্যায়েও তিনি অর্জন করেছেন বহু স্বীকৃতি। ২০২২ সালে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানোর মধ্য দিয়ে তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে যুক্ত হয় অন্যতম কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। তবে এবারের পুরস্কার শুধু মাঠের পারফরম্যান্সের জন্য নয়, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য তাঁর অবদানের স্বীকৃতিও বহন করছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) মেসির ওভিয়েদো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে শিশু-কিশোরদের সঙ্গে একটি আয়োজনে অংশ নেওয়ারও সূচি রয়েছে তাঁর। শুক্রবারের মূল অনুষ্ঠানে স্পেনের রাজপরিবারের উপস্থিতিতে সম্মাননা গ্রহণ করবেন তিনি।
মেসির এই অর্জন বিশ্ব ফুটবলে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাব ও অবদানের আরেকটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগের জন্যও যে ক্রীড়াবিদরা বিশ্বজুড়ে সম্মান অর্জন করতে পারেন, তাঁর এই পুরস্কার সেই বার্তাই তুলে ধরছে।
-20261022080132.jpg&w=1440&q=75)