ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত হবে পিএসজি ও বার্সেলোনার মধ্যকার চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার ছবি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ায় ফরাসি নাগরিকদের অনেকেই হতবাক হয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির সামাজিক অস্থিরতার চিত্রও সামনে এসেছে।
সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু জানান, নতুন করে দাঙ্গা ও লুটপাট ঠেকাতে বিভিন্ন শহরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমিত পরিসরে এবং স্থানীয়ভাবে কারফিউ জারির নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
দেশজুড়ে নগর ভবন, বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ও শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার প্যারিসের পার্ক দে প্রিন্সেস স্টেডিয়ামে পিএসজি ও বার্সেলোনার ম্যাচ ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলায় পুলিশ বাহিনী এমনিতেই চাপের মধ্যে রয়েছে।
এর আগে গত মে মাসে পিএসজির দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের উদ্যাপনের সময় প্যারিসে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি দল পুলিশ স্টেশনে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে।
সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, ফুটবল ম্যাচসহ বিভিন্ন পূর্বনির্ধারিত আয়োজন বাতিলের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তবে তিনি বলেন, 'আগামীকাল পিএসজি ও বার্সেলোনার মধ্যকার ম্যাচের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।'
তিনি আরও জানান, চলতি সপ্তাহে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতার অন্য ম্যাচগুলোও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
এর মধ্যে বুধবার ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লিলে লিল ও গালাতাসারাইয়ের ম্যাচ রয়েছে। সপ্তাহান্তে ওই শহরেও লুটপাটকারীরা বিভিন্ন দোকানে ভাঙচুর চালিয়েছে।
দেশটির উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি দলের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পিএসজির কোচ লুইস এনরিকে বলেন, এতে তার দল প্রভাবিত হবে না এবং তিনি ভীতও নন।
এনরিকে বলেন, 'এই বিষয়ে কথা বলার জন্য আমি উপযুক্ত ব্যক্তি নই। আমি এখানে ফুটবল নিয়ে কথা বলতে এসেছি। অবশ্যই আমরা এই সহিংসতা পছন্দ করি না। কিন্তু সমাজে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই আমাদের শুধু ম্যাচের দিকেই মনোযোগ ধরে রাখতে হবে।'
এদিকে প্যারিসে পিটসবার্গ স্টিলার্স ও নিউ অরলিন্স সেইন্টসের মধ্যকার জাতীয় ফুটবল লিগের ম্যাচ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো মন্তব্য করেননি। তবে গত সপ্তাহে লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ম্যাচটি পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।
রোববার স্তাদ দ্য ফ্রঁসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ম্যাচটি। এটি হবে প্যারিসে জাতীয় ফুটবল লিগের প্রথম নিয়মিত মৌসুমের খেলা। এ উপলক্ষে সপ্তাহজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও কয়েকটি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে রোববার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ। তবে জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ তাকে দায়িত্বে থাকার অনুরোধ জানান।
সহিংসতার পেছনে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে যেসব ব্যর্থতা ছিল, সেগুলো সম্পর্কে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন মাখোঁ।
প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু জানিয়েছেন, কোন কোন এলাকায় কারফিউ জারি করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ স্বীকার করেছেন, শনিবার দেশটির কয়েকটি বড় শহরে পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। ওই দিন শত শত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়।
