বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে গবাদিপশুর রোগ হিসেবে পরিচিত শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত এক ব্যক্তি চলতি অক্টোবরের শুরুর দিকে ফ্রান্সের লিয়োনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই ব্যক্তি আগে থেকেই অন্য একটি জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং তার শরীরে আরও কিছু শারীরিক সমস্যা ছিল। এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য নতুন কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়নি বলেও জানিয়েছে তারা।
প্রাথমিক তদন্তে ফরাসি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, একধরনের ক্ষুদ্র মাছি বা মিডজেসের কামড়ে ওই ব্যক্তি শামোন্ডা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন। চলতি বছরের গ্রীষ্মের শুরুতে ফ্রান্সের ওই অঞ্চলের কয়েকটি খামারে প্রথমবারের মতো ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়। এরপর তা বিভিন্ন প্রাণীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
মৃত্যুর আগে ওই ব্যক্তির শরীরে স্নায়বিক জটিলতাও দেখা দিয়েছিল। ভাইরাসটির সংক্রমণের সঙ্গে এ জটিলতার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকা ও এশিয়ায় গবাদিপশুর মধ্যে শামোন্ডা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গেলেও মানুষের শরীরে এর উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। ভাইরাসটি আর্থ্রোপডবাহিত অর্থোবুনিয়াভাইরাস গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত আক্রান্ত ক্ষুদ্র মাছি বা পোকার কামড়ের মাধ্যমে এটি গরু, ভেড়া, ছাগল, ঘোড়া ও আলপাকার মতো প্রাণীর শরীরে ছড়ায়।
ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হলে গবাদিপশুর জ্বর ও ডায়রিয়া হতে পারে। পাশাপাশি প্রাণীদের দুধ উৎপাদনও কমে যায়, যা খামারিদের জন্য অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে ইউরোপে প্রথম শামোন্ডা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়। এরপর আয়ারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি, স্পেন ও সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশের খামারের প্রাণীদের শরীরেও ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এদিকে, ভাইরাসটির সংক্রমণের বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রকে (ইসিডিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।