ছবির ক্যাপশন: .
আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা :
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষ দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজপথে নেমে এসেছিল। তাই এই অভ্যুত্থানকে সম্মান করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান কোনো দল বা ব্যক্তির একার অর্জন নয়, এটি দেশের সব মানুষের অর্জন।
আজ শনিবার (০৪ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘জুলাই ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’ ও ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ যৌথভাবে এই স্মরণসভার আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাইতে এত মানুষ জীবন দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল এ দেশের পরিবর্তন। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১ হাজার ৪০-এর বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে চিরদিনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। যেভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, তা এককথায় গণহত্যা।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছে। আর ২০২৪ সালে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য মানুষ আবার রাজপথে নেমেছে। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ’৭১-এ, আর সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করা হয়েছে ২০২৪ সালে।
মানুষ হত্যার বিচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা মানুষ হত্যা করেছে, তাদের বিচার হবে এ দেশের আইন অনুযায়ী। স্বৈরাচার যেমন বিচারের নামে অবিচার করেছে, আমরা যেন বিচারের নামে কোনো অন্যায় না করি। প্রয়োজনে সময় লাগবে, তবুও আইন অনুযায়ী সঠিক বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদি মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতাম- মা, আপনার ওপর ১৭ বছর যে অন্যায়-জুলুম, মানসিক নির্যাতন হয়েছে... তাদের বিরুদ্ধে এখন প্রতিশোধ নেবেন? মা বলতেন, প্রতিহিংসা নয়, তোমার দায়িত্ব সবাইকে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমার ভাইও একই কথা বলতো।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এমনভাবে দেশ গড়তে চাই, যেখানে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার-সম্মান পাবে। যেখানে সবার জন্য নিরাপদ রাষ্ট্র হবে। জাতিকে দ্বিধাবিভক্ত করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না। যারা বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে, তাদেরকে দেশ ঐক্যবদ্ধ রাখতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে তিনি ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত সহকর্মীদের স্মরণ করেন। বলেন, তাদের অনেককেই হারিয়েছি, কারও কারও অঙ্গহানি হয়েছে। শারীরিক কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণা আমিও অনুভব করি।
অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
