বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির শঙ্কায় স্বর্ণের বাজারে টানা চতুর্থ দিনের মতো পতন ঘটেছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) নীতি নির্ধারণী বৈঠক সামনে রেখে সুদের হার বাড়ানো বা কমানো সংক্রান্ত পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।
আজ বুধবার (২১ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৫.৯৬ ডলারে নেমে এসেছে। অন্যদিকে, ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৩৩.৬০ ডলারে স্থির হয়েছে।
ডিএইচএফ ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপক ব্যাস কুইজমান বলেন, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় স্বর্ণের ওপর কিছুটা চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। তেলের মূল্যের এই ঊর্ধ্বগতি মূল্যস্ফীতির চাপ বজায় রাখছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংককে কড়া সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণে বাধ্য করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারেরও বেশি বেড়েছে।
রয়টার্সের সমীক্ষায় দেখা গেছে, অর্থনীতিবিদদের মতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ মাসে সুদের হার বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকলেও আগামী ডিসেম্বরে তা আবার বাড়াতে পারে। সিএমইএর ‘ফেডওয়াচ‘ টুল অনুযায়ী, আগামী ২৭-২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ১৫ শতাংশ দেখা গেলেও ডিসেম্বরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৯০ শতাংশ।
সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে; কারণ ব্যাংকগুলোতে সুদের হার বেশি থাকলে সুদমুক্ত ও অলাভজনক সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার আগ্রহ ও আকর্ষণ কমে যায়। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার সাম্প্রতিক পতনের পর কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় স্বর্ণের চাহিদায় মন্দা তৈরি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে অন্য ধাতুর ক্ষেত্রেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আজ রুপার দাম ১.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৭.১৮ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম ১.৩ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬২৭.৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৮৪.৯৫ ডলারে নেমে এসেছে।
