প্রকাশ: সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে জয়ের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে তিন উইকেটে ১৩২ রান করেছে আফগানিস্তান। শেষ দিনে জিততে হলে সফরকারীদের করতে হবে আরও ৩৪৭ রান। অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রয়োজন আফগানিস্তানের বাকি সাত উইকেট তুলে নেওয়া।
চতুর্থ দিন আফগানিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে শুরুতেই আঘাত হানেন বাংলাদেশের পেসার ইবাদত হোসেন। ইনিংসের প্রথম বলেই আবদুল মালিককে উইকেটকিপার লিটন দাসের ক্যাচে পরিণত করেন তিনি। এই ম্যাচেই টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ইবাদত।
বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় উইকেটটি এনে দেন হাসান মাহমুদ। তার বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন শাহিদউল্লাহ। ১৯ বলে ১৯ রান করেন তিনি। দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করে আফগানিস্তান।
রহমত শাহ ও সেদিকুল্লাহ আতাল ধীরস্থির ব্যাটিংয়ে জুটি গড়ে তোলেন। তাদের প্রতিরোধে বাংলাদেশের বোলারদের কিছুটা অপেক্ষা করতে হয়। দুই প্রান্ত থেকে স্পিনার ব্যবহার করেও দ্রুত সাফল্য পাচ্ছিলেন না অধিনায়ক। একপর্যায়ে দুজনের জুটি ৮২ রানে পৌছায়।
শেষ পর্যন্ত সেই জুটি ভাঙেন ইবাদত। তার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে উইকেটের পেছনে লিটনের হাতে ক্যাচ দেন রহমত শাহ। ১২৪ বলে ৫১ রান করে ফেরেন তিনি। এই ক্যাচের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের হয়ে এক টেস্টে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের রেকর্ড গড়েন লিটন। চলতি টেস্টে তার ডিসমিসালের সংখ্যা দাড়ায় আটে। এর আগে ২০০৪ সালে হারারেতে খালেদ মাসুদ পাইলট এক টেস্টে সাতটি ডিসমিসাল করেছিলেন।
এর আগে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লিটন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। লিটন ১১৫ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি করেন। তার ইনিংস থামে ১০২ রানে। মিরাজ করেন ৫২ রান। এ ছাড়া নাজমুল হোসেন ৮২ এবং মুশফিকুর রহিম ৮১ রান করেন।
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ২৬ ওভার ব্যাট করে ১১৪ রান যোগ করে। দিনের খেলা শুরু হয়েছিল ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে। পরে সাত উইকেটে ৩৭২ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড থাকায় আফগানিস্তানের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাড়ায় ৪৭৯ রান।
এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৩৪৬ রান করে। জবাবে আফগানিস্তানের ইনিংস থামে ২৪০ রানে। দুই ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটারদের কার্যকর পারফরম্যান্সের পাশাপাশি পেসারদের সাফল্য দলকে জয়ের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের সংগ্রহ তিন উইকেটে ১৩২ রান। শেষ দিনে তাদের সামনে ৩৪৭ রান করার কঠিন চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে সাতটি উইকেট তুলে নিতে পারলেই টেস্টে জয় নিশ্চিত হবে বাংলাদেশের।
