স্পোর্টস ডেস্ক : উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে দেখা মিলল দুই পরাশক্তির রোমাঞ্চকর এক লড়াই। জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখের ঘরের মাঠ অ্যালিয়েঞ্জ অ্যারেনায় তাদের রুখে দিয়েছে ইংলিশ চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল।
ভাইকিংয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচে ৩-৩ গোলে ড্র করার পর জয়ে ফেরার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। ২১ অক্টোবর (বুধবার) আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় আর্সেনালের মুখোমুখি হয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়েও গিয়েছিল স্বাগতিকেরা। দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেইনের পেনাল্টি গোলে লিড নেয় বায়ার্ন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রাখতে পারেনি তারা। ডেকলান রাইসের দারুণ ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরে আর্সেনাল। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
শুরু থেকেই ম্যাচে ছিল সতর্কতার ছাপ। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখা মাইকেল ওলিসেকে ছাড়া খেলতে নামা বায়ার্ন আক্রমণে ছন্দ খুঁজে পেতে কিছুটা সময় নেয়। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ধাক্কা খায় আর্সেনাল। চোটের কারণে মাঠ ছাড়তে হয় অধিনায়ক বুকায়ো সাকাকে। তবে তার বদলি হিসেবে নামা এবেরেচি এজে হয়ে ওঠেন দলের ত্রাণকর্তা। ২৫ মিনিটে মার্টিন ওডেগার্ডের নিখুঁত লম্বা পাস ধরে বক্সে ঢুকে ন্যয়ারকে পরাস্ত করে আর্সেনালকে এগিয়ে দেন ইংলিশ মিডফিল্ডার।
তবে বায়ার্নের জবাব আসতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ৩৫ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে হ্যারি কেইনের চোখধাঁধানো পাস খুঁজে নেয় আলফোনসো ডেভিয়েসকে। আর্সেনালের রক্ষণ ভেঙে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে পরাস্ত করেন কানাডিয়ান ফুলব্যাক। তাতে ১-১ সমতায় ফেরে বায়ার্ন। এই অ্যাসিস্টের মাধ্যমে চলতি মৌসুমে নিজের সপ্তম অ্যাসিস্ট পূর্ণ করেন কেইন। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে তার চেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট তখন কেবল লামিনে ইয়ামালের (১০টি)।
বিরতির পর ম্যাচের উত্তাপ আরও বাড়ে। দুই দলই একের পর এক আক্রমণে গোলের সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ৪৮ মিনিটে ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে ব্রুনো গিমারাইসের হেড প্রায় গোল হয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন ন্যয়ার। এরপর বল ক্রসবারেও লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটেই বায়ার্নের পাল্টা আক্রমণে উপামেকানোর হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন রায়া।
আরও পড়ুন
ম্যাচের ৬১ মিনিটে আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় বায়ার্ন। হ্যারি কেইনের শট আটকাতে গিয়ে হাতে বল লাগান আর্সেনাল ডিফেন্ডার ইয়ুরিয়েন টিম্বার। প্রথমে পরিস্থিতি যাচাই করে এবং পরে ভিএআরের সাহায্য নিয়ে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন রেফারি। স্পটকিক নিতে এসে ভুল করেননি কেইন। রায়াকে একদিকে পাঠিয়ে বল জালে জড়ান ইংলিশ স্ট্রাইকার। ২-১ গোলে এগিয়ে যায় বায়ার্ন, আর জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে স্বাগতিক সমর্থকেরা।
কিন্তু ম্যাচের শেষ ভাগে সেই স্বপ্নে পানি ঢেলে দেয় আর্সেনাল। ৮২ মিনিটে ননি মাদুয়েকের সঙ্গে আক্রমণ সাজিয়ে বল বাড়িয়ে দেন ভিক্টর ইয়োকেরেস। বক্সের ডান দিক থেকে ডেকলান রাইসের নিচু শট ঠেকানোর সুযোগ পাননি ন্যয়ার। বল জালে জড়াতেই আবার সমতায় ফেরে আর্সেনাল। শেষ মুহূর্তে ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি কোনো দলই। ফলে নিজেদের মাঠে আরও একবার হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বায়ার্নকে।
এই ড্রয়ের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে তিন ম্যাচে সাত পয়েন্ট নিয়ে তালিকার সপ্তম স্থানে রয়েছে আর্সেনাল। অন্যদিকে ভাইকিংয়ের সঙ্গে গোলবন্যার ম্যাচে ড্র করার পর এবার নিজেদের মাঠেও জয় পেল না বায়ার্ন। টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৪তম স্থানে রয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
_1792644425.png&w=1440&q=75)