পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে পর্যাপ্ত, অনুমেয় ও স্বচ্ছ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে সার্কুলার ইকোনমি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের টেকসই ও প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল তন্তু পাটের সম্ভাবনা কপ৩১-এ তুলে ধরার কথা জানান।
আসন্ন জলবায়ু সম্মেলন কপ৩১-এ বাংলাদেশের প্রস্তুতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণের লক্ষ্যে জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বৈঠকে জলবায়ু অর্থায়ন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, ক্ষয়ক্ষতি তহবিল ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের পাটের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এতে প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, গবেষক, দেশী-বিদেশী বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
বৈঠকে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমন, অভিযোজন ও সহনশীলতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার বৈশ্বিক মঞ্চ কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ (কপ)। সম্মেলনে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে জলবায়ু ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড, জাস্ট ট্রানজিশন এবং গ্রিন গ্রোথের মতো বিষয়ে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিল থেকে পর্যাপ্ত, অনুমেয় ও স্বচ্ছ অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। একই সঙ্গে সার্কুলার ইকোনমি ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের টেকসই ও প্রাকৃতিকভাবে পচনশীল তন্তু পাটের সম্ভাবনা কপ৩১-এ তুলে ধরার কথা জানান।
বৈঠকে জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনের বিভিন্ন আলোচ্যসূচি নিয়ে নিজেদের মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সম্মেলনে অংশ নিতে যাওয়া তরুণ প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের প্রস্তুতি জোরদারে প্রস্তাব দেন। আলোচকরা বাস্তবায়নযোগ্য সমন্বিত কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন এবং সরকারের পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক উদ্যোগগুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেন।
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে কপ৩১। সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল হাই-লেভেল সেগমেন্টসহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেবে। এছাড়া প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাটের ব্যবহার, পাটজাত পণ্য ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তির বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরতে সম্মেলনে একটি বিশেষ প্যাভিলিয়ন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
