উৎসবের আনন্দে বিষাদ বয়ে এনেছে চোরবাগান। দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে ইতিমধ্যেই প্রাণ হারিয়েছেন ১৯ জন। আহত একাধিক। মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া কলকাতা ময়দানে। নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করল ময়দানের দুই প্রধান। মর্মান্তিক ঘটনার পরে একগুচ্ছ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে কলকাতার একাধিক বড় পুজোমণ্ডপে।
ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ও মোহনবাগানের সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাব নিজেদের স্যোশাল হ্যান্ডলে লিখেছে, ‘চোরবাগান সার্বজনীন দুর্গাপুজোর মণ্ডপে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করছি। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলির প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানানোর সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করি।’ এখানেই বার্তাটি শেষ হয়নি। তারা আরও লিখেছে, ‘উৎসবের উদযাপন তখনই প্রকৃত অর্থ লাভ করে, যখন আমরা একটি দায়িত্বশীল সমাজ হিসেবে নিজেদের কর্তব্য পালন করি। আসুন, আমরা সহমর্মিতার বন্ধনে ঐক্যবদ্ধ হই এবং নিশ্চিত করি যে আমাদের সহনাগরিকদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা যেন সবসময় আমাদের কাছে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পায়।’
মোহনবাগানের স্যোশাল মিডিয়া পেজে একই রকমভাবে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তারা লিখেছে, ‘কলকাতায় মর্মান্তিক পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।’ দুই প্রধানের পাশাপাশি সিএবির তরফ থেকেও নিহতদের প্রতি শোকজ্ঞাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করা হয়েছে তাদের তরফ থেকে।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ নাগাদ বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপ থেকে বেরোনোর গেটে ভিড়ের চাপ ব্যাপক বেড়ে যায়। সরু গেট কার্যত আটকে যাওয়ায় মণ্ডপের ভিতরে মানুষের চাপ বাড়ে। একসঙ্গে অনেকে বেরোনোর চেষ্টা করায় ভিড়ের চাপে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটে। ময়নাতদন্তের যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, সপ্তমীর রাতে চোরবাগান মণ্ডপে ভয়ংকর ওই দুর্ঘটনায় যে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় সকলের মৃত্যুর দমবন্ধ হওয়ার কারণে। অর্থাৎ রিপোর্টেই স্পষ্ট, সপ্তমীর রাতে কী ভয়াবহ পরিস্থতি তৈরি হয়েছিল চোরবাগানের অভিশপ্ত মণ্ডপে।
