কালবেলা · সাধারণ
কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যার মামলা গ্রহণ নিয়ে বাকবিতণ্ডা, থানা ঘেরাও
১৮/১০/২০২৬

কুমিল্লা নগরের যুবদল নেতা আবু কাউছার হত্যা মামলার এজাহার সংশোধন নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বাদীপক্ষের বিরোধের জেরে কোতোয়ালি মডেল থানায় বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। রোববার সকালে মামলাটি নথিভুক্ত করার আগে এ নিয়ে বাদী ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে। এতে শান্ত হন বিক্ষোভকারীরা।
এদিকে, এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই ভাই তৌহিদ ও তানজিরকে রোববার বিকেলে আদালতে তোলা হয়। কুমিল্লা আদালতের পুলিশ পরিদর্শক সাদেকুর রহমান জানান, আদালত তাদের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
নিহত আবু কাউছারের বড় ভাই ও মামলার বাদী কবীর হোসেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসভাপতি।
তিনি জানান, পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে প্রাথমিক তদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে এজাহারে ঘটনার বর্ণনা পরিবর্তন করতে বলেন ওসি। আটক দুই ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাদের আসামি করা হবে, সে বিষয়েও মতামত দেন তিনি। তবে সেই মতামত মানতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ কবীরের।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করলে খবর পেয়ে কাপ্তান বাজার এলাকার লোকজন ও সাংবাদিকরা থানার ওসির কক্ষে জড়ো হন। সেখানে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে থানার সামনে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, চাপের মুখে পুলিশ শেষ পর্যন্ত মামলাটি গ্রহণ করে।
বিক্ষোভকারীরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরে নিহতের বড় ভাইসহ এলাকার নেতারা তাঁদের শান্ত করলে তারা ফিরে যান।
কবীর হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। পুলিশ যে পাঁচজনের নাম জানিয়েছে, তাদেরই আসামি করা হয়েছে; বাকিদের রাখা হয়েছে অজ্ঞাতনামা হিসেবে।
তার অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা এজাহারে উল্লেখ করতে পুলিশ চাপ দিয়েছিল। তবে তাদের বক্তব্য, তদন্তের মাধ্যমে তা বেরিয়ে আসবে। সাক্ষীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এজাহারে ঘটনার বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
কবীর আরও অভিযোগ করেন, আসামিরা ভূমিদস্যু এবং তাদের অনেক টাকা রয়েছে। তাদের বাঁচানোর চেষ্টা থেকে পুলিশ এমন অবস্থান নিয়েছিল কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, ‘আমি ভাই হত্যার বিচার চাই।’
এদিকে ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি বলেন, বিষয়টি বুঝতে ভুল হয়েছিল। পুলিশ সুপারের নির্দেশ ছিল, হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত এবং যেভাবে ঘটনা ঘটেছে, তা এজাহারে উল্লেখ করে তাদের আসামি করতে হবে। পরে ভুল-বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে এবং মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
গত শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার ছত্রখিল এলাকায় গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবু কাউছারকে কুপিয়ে জখম করা হয়। পরে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি কুমিল্লা নগরের কাপ্তান বাজার এলাকার মৃত আবদুল মান্নানের ছোট ছেলে। এ ঘটনায় কাউছারকে বহনকারী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক মাসুমও আহত হন।
হত্যাকাণ্ডের ১২ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ দুই ভাই তৌহিদ ও তানজিরকে আটক করে। তানজিরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে এবং তৌহিদকে কুমিল্লা নগরের নূরপুর এলাকা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗