আজকাল ওয়েবডেস্ক: দুর্নীতি মামলায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই ঘটনায় সিবিআই-য়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দুষছে বিজেপি-কে। এই প্রেক্ষাপটে বিজেপি সভাপতি শমিক ভট্টাচার্যের দাবি, জামিন দেওয়া মানেই তিনি নির্দোষ- এমনটা প্রমাণ হয় না।
শমিক ভট্টাচার্য বলেন, "আবেগ দিয়ে আইন চলে না এবং জামিন পাওয়া একজন ব্যক্তির আইনি অধিকার।" হাসপাতালে আর্থিক অনিয়ম এবং অযোগ্য প্রার্থীদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার জন্য মেধা তালিকায় কারচুপি করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট সন্দীপ ঘোষকে জামিন দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কর্তৃব্যরত অবস্থায় এক চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয় রাজ্য। ছড়িয়ে পড়েছিল ব্যাপক বিক্ষোভ, ঠিক সেই সময়েই সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়াগুলো সামনে আসে।
বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে শমিক ভট্টাচার্য পিটিআই-কে বলেছেন, "যাঁরা 'অভয়া' আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা হয়তো হতাশ হচ্ছেন। কিন্তু আইন আবেগের বশবর্তী হয়ে চলে না। জামিন পাওয়া একজন ব্যক্তির আইনি অধিকার।" তিনি আরও বলেন, জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে সন্দীপ ঘোষ নির্দোষ বা অপরাধের সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
রাজ্য বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার এই বিজেপি সাংসদ বলেন, "সন্দীপ ঘোষ জামিন পেয়েছেন বলেই যে তিনি নির্দোষ বা অপরাধের সঙ্গে তাঁর কোনো যোগসূত্র নেই- এমনটা বলা যায় না। তবে জনমানসে এটা স্পষ্ট যে, তাঁরা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়তো কিছু আইনি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ও কাজ করে থাকতে পারে।"
সুপ্রিম কোর্ট জামিন মঞ্জুর করার সময় সন্দীপ ঘোষের প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে থাকার বিষয়টি এবং বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির কথা উল্লেখ করেছে। এর আগে একটি বিশেষ সিবিআই আদালত এবং কলকাতা হাইকোর্টে সন্দীপের জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। তার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শিয়ালদহ আদালত ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় সন্দীপ ঘোষকে জামিন দেয়, কারণ সিবিআই নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে পারেনি। তবে আর্থিক অনিয়মের মামলায় তিনি তখনও কারাগারে ছিলেন।
চলতি বছরের ১৮ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার দুর্নীতি মামলায় সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার অনুমতি পায়।
শমিক ভট্টাচার্য ফের জোর দিয়ে বলেন যে, "সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়া একটি আইনি সিদ্ধান্ত মাত্র। এর অর্থ এই নয় যে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোতে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন।
