জয়পুরহাটে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে সরকারি ওষুধ সরবরাহ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন গ্রামীণ জনপদের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ। ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জয়পুরহাটের পাঁচটি উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার একমাত্র ভরসা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘ ৬ মাস ধরে জেলাটির বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মিলছে না কোনো সরকারি ওষুধ। ফলে একদম ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ জনপদের তৃণমূল স্বাস্থ্য সেবা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন গর্ভবতী নারী ও শিশুরা। পরিবার পরিকল্পনার পরামর্শ কিংবা সাধারণ জ্বর-ঠান্ডার ওষুধটুকুও মিলছে না এখানে। নিরুপায় হয়ে দরিদ্র মানুষগুলোকে ছুটতে হচ্ছে জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে। এতে বাড়ছে যাতায়াত খরচ ও চরম ভোগান্তি।
বিজ্ঞাপন
কুসুম্বা ইউনিয়ন ও স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা আমেনা বেগম বলেন, বেশকিছু দিন থেকে গায়ে জ্বর, ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্য এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম কিন্তু কোনো ওষুধ সরবরাহ নেই। বাধ্য হয়ে ফিরে যাচ্ছি।
কহিনুর বেগম নামে এক নারী বলেন, আমরা গরীব মানুষ। আগে অসুখ-বিসুখ হলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যেতাম। এখন ৬ মাস হয়ে যাচ্ছে তবুও ওষুধের কোনো খবর নেই, তাহলে আমরা গরীব মানুষগুলো কোথায় যাবো। আমাদের তো আর বেশি টাকা পয়সা নেই। ক্লিনিক বা দূরের হাসপাতালে গেলে তো খরচ আর খরচ।
বিজ্ঞাপন
বিভিন্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলো ঘুরে দেখা যায়, ওষুধের সরবরাহ না থাকায় অলস পড়ে আছে স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো। রোগীর ভিড় নেই, নেই কোনো লোকজনের আনাগোনা। কোথায় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের লোক আছে আবার কেউ কেউ সময় মতো আসেন না। আবার দু’একজন রোগী এসে ওষুধ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে, আবার কেউ কেউ চিকিৎসাপত্র নিয়েই চলে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় সবাই জেনেছে ওষুধ পাওয়া যায় না যার কারণে অনেকেই আসেন না বলে জানান স্থানীয়রা।
মোহাম্মদপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ফার্মাসিস্ট বদিউজ্জামান বলেন, গত এপ্রিল মাস থেকে আমার স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ সরবরাহ নেই সরকারিভাবে। যার কারণে রোগী আসলে সেবা দিলেও ও ওষুধ দিতে পারছি না। এতে করে অনেক রোগী মন খারাপ করে চলে যায়। আমাদের কিছু করার থাকে না।
বালিঘাটা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার মশিউর রহমান বলেন, সরকারিভাবে যে ওষুধগুলো দেওয়া হতো তা সবগুলো বন্ধ আছে। এ কারণে রোগী আসলে চিকিৎসাপত্র দিয়ে পাঠাতে হয়। ওষুধ দেওয়া যায় না। তবে সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহ সচল হলে প্রান্তিক পর্যায়ে আমরা সেবা দিতে পারবো।
বিজ্ঞাপন
জয়পুরহাট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, সরকারিভাবে দীর্ঘদিন থেকে ওষুধ সরবরাহ বন্ধ ও জনবল সংকট রয়েছে। জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ২৫টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আছে। সেগুলোতে ওষুধ সরবরাহ বন্ধের পাশাপাশি কিছু কিছু জায়গায় জনবল সংকটও রয়েছে। আশা করছি দ্রুতই এসব সংকট কাটিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পাবেন সাধারণ মানুষরা।
মো. আল-কারিয়া চৌধুরী/এনএইচআর
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
