কাশ্মীরের মসজিদে একই খুতবার প্রস্তাব, ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন
ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সব মসজিদে অভিন্ন জুমার খুতবা চালুর প্রস্তাব দিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ড। রাজনীতিক ও ধর্মীয় নেতারা অভিযোগ করেছেন, মুসলিমদের ধর্মীয় পরিসরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে সরকার। প্রতিবাদের মুখে বোর্ডপ্রধান পরে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন।
ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দারাখশান আন্দ্রাবি নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপির সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় নেতা। মোদি সরকার ২০১৯ সালে কাশ্মীরের আধা-স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করে।
গত রোববার বোর্ড কাশ্মীরের প্রায় ১ হাজার ৫০০ আলেম ও ধর্মপ্রচারককে ডেকে বৈঠক করে। এক ভারতীয় সংবাদপত্রকে আন্দ্রাবি বলেন, সমাজের নানা সমস্যা, বিশেষ করে মাদকাসক্তির মতো সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় এ পদক্ষেপ জরুরি। তার দাবি, আলেমদের একটি কমিটি খুতবা অনুমোদন করবে, এতে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো ভূমিকা থাকবে না।
তবে অনলাইনে বৈঠকে অংশ নেওয়া রাজৌরির এক আলেম আল জাজিরাকে জানান, আন্দ্রাবি নির্দেশ দিয়েছেন, শীর্ষ আলেমদের কমিটির তৈরি পূর্বনির্ধারিত খুতবাই শুধু মিম্বরে পড়া হবে। কমিটিতে কারা থাকবেন, তা জানানো হয়নি। খুতবা ইসলামি শিক্ষার পরিপন্থী হলে মানা হবে না বলে আপত্তি তুললে তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। আন্দ্রাবি বলেছেন, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত, কারণ এটি চার বছর ধরে প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিশোধের ভয়ে ওই আলেম নাম প্রকাশ করেননি।
কাশ্মীরের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নঈম আখতার বলেন, মধ্যযুগে সুলতান বা খলিফার নামে কেন্দ্রীয় খুতবা হতো, কারণ তখন কাশ্মীর ছিল ইসলামি রাষ্ট্র। এখন একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে বসবাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো মুসলিম রাজনৈতিক দল কি ভারতে হিন্দু পুরোহিত বা খ্রিস্টান যাজককে নির্দেশ দিতে পারে?
অঞ্চলটির প্রধান মুসলিম ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও প্রস্তাবটিকে সরাসরি ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার নেতৃত্বাধীন ধর্মীয় সংগঠনগুলোর যৌথ মঞ্চ মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-ওলামা বলেছে, খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের দায়িত্ব ইসলামি আলেমদের, প্রশাসনিক সংস্থার নয়। কাশ্মীরের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সমালোচনার মুখে আন্দ্রাবি পরে তার বক্তব্য থেকে সরে এসে বলেন, সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা করবেন কি না, তা স্বাধীন আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আত্মহত্যা, মানসিক চাপ ও মাদকাসক্তির মতো বিষয়গুলো আলোচনায় রাখার কথাও জানান তিনি।
এটিই প্রথম নয়। জানুয়ারিতে পুলিশ ‘মসজিদের প্রোফাইলিং’ নামে একটি ফরম বিলি করে, যাতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ বিস্তারিত চাওয়া হয়। এ ছাড়া শ্রীনগরের ৬০০ বছরের পুরোনো জামিয়া মসজিদ ঈদ বা শবে কদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে প্রায়ই বন্ধ রাখা হয়। ২০২২ সালে ওয়াকফ বোর্ড দরগায় স্বেচ্ছা অনুদান সংগ্রহের প্রথাও নিষিদ্ধ করে।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
