দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য ব্যবসায় শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এখন থেকে রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে রাস্তার ধারের পিঠা, পুরি ও পেঁয়াজুর দোকান পর্যন্ত নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির সব খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বুধবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিএফএসএ জানিয়েছে, আগামী ১লা নভেম্বর থেকে এই নিয়ম কার্যকর হবে। নিবন্ধন বা লাইসেন্স ছাড়া খাদ্য ব্যবসা পরিচালনা করলে তা নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার মধ্যে রয়েছে রেস্তোরাঁ, বেকারি, ফলের রসের দোকান, পেস্ট্রি শপ, ক্যাটারিং সেবা, প্যাকেটজাত খাবার উৎপাদনকারী, দুগ্ধপণ্য প্রস্তুতকারী এবং কাঁচা বা তাজা ছাড়া অন্যান্য খাদ্যপণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া পাইকারি মুদি খাদ্য ব্যবসা, খাদ্য সংরক্ষণাগার, কোল্ড স্টোরেজ এবং ভোজ্যতেল ও লবণ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকেও এই নিবন্ধনের আওতায় আনা হয়েছে। অন্যদিকে, বিশেষায়িত খাদ্যপণ্য যেমন—জৈব খাদ্য, বংশগতভাবে পরিবর্তিত খাদ্য, পুষ্টিসমৃদ্ধ (ফর্টিফায়েড) খাদ্য, অভিনব খাদ্য এবং স্বাস্থ্য সহায়ক বা রোগের ঝুঁকি কমানোর দাবি-সংবলিত পণ্যের উৎপাদন ও বিপণনের ক্ষেত্রে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে চিকিৎসাসংক্রান্ত বিশেষ পথ্য, প্রোবায়োটিক, প্রিবায়োটিক ও নিউট্রাসিউটিক্যালস জাতীয় পণ্যের ব্যবসায়ও লাইসেন্সের শর্ত প্রযোজ্য।
নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও ফি প্রসঙ্গে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবিধানমালা অনুযায়ী প্রচলিত ১৬ শ্রেণির ব্যবসায় প্রথমবার নিবন্ধন বিনা ফিতে করা যাবে। তবে বিশেষায়িত খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স ফি প্রতিষ্ঠানের আয়তন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। ১০০ বর্গমিটার বা তার চেয়ে কম আয়তনের প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রিমিসেস লাইসেন্স ফি ১০ হাজার টাকা এবং ১০ হাজার বর্গমিটারের বেশি আয়তনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ফি ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতিটি নিবন্ধন বা লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর, যা পরবর্তীতে নবায়নযোগ্য। এছাড়া প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে বিএফএসএর নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক, যাতে ভোক্তা সহজেই পণ্যের মান সম্পর্কে জানতে পারেন ও প্রয়োজনে অভিযোগ জানাতে পারেন। এর মাধ্যমে ভোক্তারা পণ্যের নিবন্ধন সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং অভিযোগের ক্ষেত্রেও নম্বরটি ব্যবহার করতে পারবেন।
আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিএফএসএ জানিয়েছে, লাইসেন্সের জন্য ৬.১, ৭.১, ৮.১ ও ৯.১ এবং নিবন্ধনের জন্য ৫.১ নম্বর ফরমে আবেদন করতে হবে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট জেলার কার্যালয়ে এই আবেদন জমা দেওয়া যাবে, তবে ভবিষ্যতে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের ১লা নভেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ব্যবস্থার ফলে খাদ্যপণ্য উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হবে।
The post ১লা নভেম্বর থেকে সব খাদ্য ব্যবসায় বাধ্যতামূলক নিবন্ধন appeared first on Daily Sangbad Chorcha.
