Published on
:
2 min read
এই সময়, আসানসোল ও দুর্গাপুর: প্রতিমা নিরঞ্জনে এ বারই প্রথম দামোদরে ট্রলির ব্যবস্থা করলেন আসানসোল পুর কর্তৃপক্ষ। তবে সরকারি নির্দেশ সত্ত্বেও ব্যক্তিগত মালিকানার পুকুরে ট্রলির ব্যবস্থা করা যায়নি বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে। দুর্গাপুর ব্যারাজের ঘাটেও হাইড্রলিক ট্রলির মাধ্যমে প্রতিমা বিসর্জনের ব্যবস্থা করেছে দুর্গাপুর পুরসভা। কিন্তু পুর এলাকার অন্য জলাশয়গুলিতে ক্রেনের সাহায্যে প্রতিমা বিসর্জন চলছে।
এ বার দুর্গাপুজোর আগেই মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল, দুর্ঘটনা এড়াতে বিসর্জনের ঘাটে ক্রেনের বদলে ট্রলির ব্যবস্থা করা হবে। এর জন্য পুরসভাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু আসানসোলের একাধিক পুকুরে ট্রলি বসাতে গিয়ে সেগুলির মালিকদের বাধার মুখে পড়েন পুর কর্তৃপক্ষ। শেষ পর্যন্ত শুধুমাত্র দামোদরের ঘাটে ট্রলি বসানো হয়। বার্নপুরের কালাঝরিয়াতেও দামোদরের ঘাটে দু'টি ট্রলির ব্যবস্থা করেছেন পুর কর্তৃপক্ষ। এ প্রসঙ্গে পুর কমিশনার দিলীপ মিশ্র বলেছেন, 'ট্রলিতে বসিয়েই প্রতিমাগুলিকে দামোদরের জলে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।'
বৃহস্পতিবার আসানসোলের দামোদর ঘাটে গিয়ে দেখা গিয়েছে, রয়েছেন পুরসভার সাফাইকর্মীরা। প্রতিমা বিসর্জনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা জলে নেমে কাঠামো তুলে আনছেন। আর প্রতিমাকে ট্রলিতে চাপিয়ে জলে ফেলা পর্যন্ত পুরো কাজের তদারকি করছেন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। একই চিত্র দুর্গাপুর ব্যারাজের ঘাটেও। বুধবার সন্ধ্যা থেকে ওই ঘাটে যত প্রতিমা আসছে, সবগুলিকেই হাইড্রলিক ট্রলির মাধ্যমে বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে। বিসর্জনের পরে ক্রেনের সাহায্যে জল থেকে কাঠামো তুলে পাড়ে রাখা হচ্ছে।
এ দিকে জানা গিয়েছে, প্রতিমা বিসর্জনের জন্য দুর্গাপুর ব্যারাজ ও নিউ টাউনশিপ থানা এলাকার অর্জুনবাঁধ জলাশয়ে হাইড্রলিক ট্রলি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দুর্গাপুর পুর কর্তৃপক্ষ। ট্রলি বসাতে পুরসভা টেন্ডার ডাকে। কিন্তু একটি ঠিকাদার সংস্থা বরাত পেয়েও হাতে খুবই কম সময় থাকায় পিছিয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে অন্য এক ঠিকাদার সংস্থাকে রাজি করিয়ে শুধু দুর্গাপুর ব্যারাজে ওই ট্রলির ব্যবস্থা করা হয়। তিন দিন আগে পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক এস পোন্নমবলম ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সেখানে বিসর্জনের মহড়া দেওয়া হয়।
দুর্গাপুর পুরসভার কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম বৃহস্পতিবার বলেছেন, 'সময় কম ছিল। একমাত্র ব্যারাজে তড়িঘড়ি হাইড্রলিক ট্রলি তৈরি করা হয়েছে।' পুরসভার এক ইঞ্জিনিয়ার বলেছেন, 'দুর্গাপুর ব্যারাজের বিসর্জন ঘাটে কয়েক বছর আগে হাইড্রলিক ট্রলির পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছিল। সেই জন্য দ্রুত এখানে ট্রলির ব্যবস্থা করা গিয়েছে। পরের বছর অর্জুনবাঁধে আগে থেকে পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।' ফলে দুর্গাপুরের অর্জুনবাঁধ ছাড়াও ভাবা পুকুর ও অন্য জলাশয়ে আগের মতোই ক্রেনের সাহায্য প্রতিমা বিসর্জন চলছে।
