আজকাল ওয়েবডেস্ক: সিট গঠনের ১২ ঘন্টার মধ্যে চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো মণ্ডপে সিটের ছয় প্রতিনিধির দল। পুজো মণ্ডপের প্রস্থান গেটে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, তা খতিয়ে দেখতেই ঘটনাস্থলে যান বিশেষ তদন্তকারী দল। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন ডিজি ফায়ার অনুজ শর্মা, ডিজি এসটিএফ জাভেদ শামিম-সহ সিটের প্রতিনিধি দল। বৃহস্পতিবার দুপুরে ছয় সদস্যের তদন্তকারী দলের পাশাপাশি মণ্ডপ ফরেন্সিক দলও ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। মণ্ডপের ভিতর ও বাইরের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখে নমুনা সংগ্রহ করেন তাঁরা। তদন্তকারীদের নজরে এখন ভিড়ের গতিপ্রকৃতি, প্রবেশ ও বেরোনোর পথ এবং দুর্ঘটনার আগে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি।
রাজ্য সরকারের গঠিত ছয় সদস্যের সিটের নেতৃত্বে রয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অনিন্দিতা রায় সরস্বতী। দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ তদন্তকারী দলের সদস্যরা চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে পৌঁছন। ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে পদপিষ্টের পরিস্থিতি কী ভাবে তৈরি হয়েছিল, তার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন তাঁরা। পুজো মণ্ডপ ইতিমধ্যেই সিল করে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনা পরেই ঘটনাস্থল সিল করা হয়। সিটের চেয়ারপার্সন জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ভিতরে ঢুকতে পারবেন না। সিটের প্রতিনিধিরা ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার ফুটেজের সঙ্গে মিলিয়ে ঘটনার সময়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, গোটা এলাকার থ্রিডি ম্যাপিং করা হয়। তার মাধ্যমে মণ্ডপের ভিতরের পরিকাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে এবং সেই মুহূর্তে কত লোক ভিতরে ছিল। সেই জায়গায় একসঙ্গে বেশি লোক থাকার জন্যই সরু পরিসরে দুর্ঘটনা না কি অন্য কারণ তা যাচাই করতেই এই থ্রিডি ম্যাপিং করা হয়েছে।
তদন্তে কয়েকটি বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রথমত, মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় কতটা ছিল এবং কোন সময়ে চাপ বাড়তে শুরু করেছিল। দ্বিতীয়ত, মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে মানুষের চলাচলের পথে কোনও বাধা তৈরি হয়েছিল কি না। পাশাপাশি, মণ্ডপ ভেঙে পড়ার কোনও গুজব বা ঘোষণা থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে। সেদিনের বৃষ্টির ভূমিকা নিয়েও তদন্তকারীরা তথ্য সংগ্রহ করবেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, প্রথম সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনে কয়েক হাজার দর্শনার্থীর সমাগম হয়েছিল। বৃষ্টির কারণে অনেকেই মণ্ডপের বাইরে না বেরিয়ে গেটের কাছে অপেক্ষা করছিলেন বলে অভিযোগ। অন্যদিকে, সেই সময় বহু দর্শনার্থী মণ্ডপে প্রবেশ করছিলেন। ফলে প্রবেশপথের কাছে ভিড়ের চাপ বাড়তে থাকে। সেখান থেকেই ঠেলাঠেলি এবং পরবর্তী সময়ে পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে সিট।
গত সপ্তমীতে উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৫ জন। তবে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে ভিড় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল, দুর্ঘটনার আগে কোনও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল কি না এবং ভিড় সামলানোর ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি ছিল কি না, তার উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও ফরেন্সিক নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে সেই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
