দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে গত সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবসে সার্বিক সূচক ও লেনদেনে মন্দা ভাব বা নিম্নমুখিতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায় যে এই সময়ে এক্সচেঞ্জটির অধিকাংশ খাতের শেয়ারের দাম কমেছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক রিটার্ন বা লোকসানের মুখে পড়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান, সিরামিক ও পাট খাত। এছাড়া দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও গত সপ্তাহে সূচকের পতন ঘটেছে।
বাজারের সার্বিক পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের সপ্তাহের তুলনায় চব্বিশ পয়েন্ট হ্রাস পেয়ে পাঁচ হাজার চারশত বায়ান্ন পয়েন্টে নেমে এসেছে, যেখানে এর আগের সপ্তাহে এই সূচকটি ছিল পাঁচ হাজার চারশত ছিয়াত্তর পয়েন্ট। একইভাবে বাছাই করা কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সপ্তাহের ব্যবধানে নয় পয়েন্ট কমে দুই হাজার সাতানব্বই পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের সপ্তাহের সমাপনীতে ছিল দুই হাজার একশত ছয় পয়েন্ট। পাশাপাশি শরিয়াহ সূচক ডিএসইএক্সও গত সপ্তাহে নয় পয়েন্ট কমে এক হাজার আটাত্তর পয়েন্টে নেমে এসেছে, আগের সপ্তাহ শেষে যা ছিল এক হাজার সাতাশি পয়েন্ট।
আলোচ্য সপ্তাহে ডিএসইতে মোট তিনশত পঁচাশিটি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড এবং করপোরেট বন্ডের শেয়ার ও ইউনিট কেনাবেচা হয়েছে। এর মধ্যে বাজারদরে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে একশত বিশটি প্রতিষ্ঠানের, দর কমেছে দুইশত তেইশটির এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় ছিল উনচল্লিশটি কোম্পানির শেয়ারদর, এছাড়া লেনদেন হয়নি এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল আঠারোটি। গত সপ্তাহে এক্সচেঞ্জটির সূচক পতনের পেছনের ধাক্কায় সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, গ্রামীণফোন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন।
খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে দেখা যায় যে গত সপ্তাহে বাজারজুড়ে বস্ত্র খাতের শেয়ারের আধিপত্য বজায় ছিল। বিশ্লেষণ বলছে, বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের চব্বিশ দশমিক তিন শতাংশ দখল করে শীর্ষস্থানটি ধরে রেখেছিল বস্ত্র খাত। এগারো দশমিক চার শতাংশ লেনদেন হয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল সাধারণ বিমা খাত, আর ৯ দশমিক পাঁচ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল প্রকৌশল খাত। এছাড়া আট দশমিক আট শতাংশ লেনদেনের ভিত্তিতে চতুর্থ স্থানে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত এবং সাত দশমিক চার শতাংশ লেনদেনের সুবাদে পঞ্চম অবস্থানে অবস্থান করছিল ব্যাংক খাত।
ডিএসইতে গত সপ্তাহে অধিকাংশ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন আসায় বিনিয়োগকারীদের বড় অংশ লোকসানে ছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি তিন দশমিক এক শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন রেকর্ড করা হয়েছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে। এছাড়া সিরামিক খাতে দুই দশমিক চার শতাংশ, পাট ও বস্ত্র খাতে দুই দশমিক দুই শতাংশ, তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এক দশমিক ছয় শতাংশ এবং খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর বিপরীতে সামান্য হলেও ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে শূন্য দশমিক সাত শতাংশ, কাগজ খাতে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে শূন্য দশমিক দুই শতাংশ।
অন্যদিকে দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও গত সপ্তাহে মন্দা ভাব বজায় ছিল। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই শূন্য দশমিক আটান্ন শতাংশ কমে চৌদ্দ হাজার পাঁচশত সাতাত্তর পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল চৌদ্দ হাজার ছয়শত একষট্টি পয়েন্ট। এছাড়া সিএসসিএক্স সূচকটি সপ্তাহের ব্যবধানে শূন্য দশমিক ছিয়াত্তর শতাংশ হ্রাস পেয়ে আট হাজার নয়শত আটচল্লিশ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল নয় হাজার সতেরো পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে সিএসইতে মোট বাহাত্তর কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে। আলোচিত এই সময়ে সিএসইতে লেনদেন হওয়া দুইশত পঁচাশিটি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে বাজারদর বৃদ্ধি পেয়েছে পঁচাত্তরটির, দাম কমেছে একশত ছিয়াশির এবং অপরিবর্তিত অবস্থায় থেকে গেছে চৌবিশটি কোম্পানির শেয়ারদর।
