সহস্রভুজা দুর্গায় মুগ্ধ দর্শনার্থীরা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ এএম
তপ্তকাঞ্চন বর্ণের সহস্রভুজা দুর্গা। সম্প্রতি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর শিববাড়িতে।ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর শিববাড়ি মন্দির। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী, নানা কারুকার্য আর চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা। মন্দিরের মূল আকর্ষণ তপ্তকাঞ্চন বর্ণের সহস্রভুজা দেবী দুর্গার বিশাল প্রতিমা। পাথরের তৈরি প্রায় ২৩ ফুট উচ্চতার এই প্রতিমাকে ঘিরে দুর্গোৎসবে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ঘটে। শুধু দুর্গাপূজার সময়ই নয়, সারা বছরই মনস্কামনা পূরণের আশায় এখানে ছুটে আসেন অসংখ্য ভক্ত।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিববাড়ি মন্দিরের মূল প্রাঙ্গণে প্রবেশের আগেই দূর থেকে চোখে পড়ে এর সুউচ্চ চূড়া। প্রবেশপথে রয়েছে ভৈরব মন্দির। সেখান থেকে কিছুটা এগোলেই দেখা মেলে মূল মন্দিরের। এর স্থাপত্যশৈলী ও কারুকার্য সহজেই আকৃষ্ট করছে দর্শনার্থীদের।
স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাদিপুরের এ শিববাড়ি দীর্ঘদিন ধরে পুণ্যার্থীদের কাছে একটি তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। এখানে দেবী দুর্গার পাশাপাশি শিবের আরাধনাও চলে নিয়মিত।
আরও পড়ুন
মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রধান পূজারি আচার্য পুলক সোম জানান, স্বপ্নাদেশে পাওয়া সহস্রভুজা দেবী দুর্গার প্রতিমা নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের নভেম্বরে। তবে করোনাকালে নির্মাণকাজের গতি কমে যাওয়ায় তা শেষ করতে কিছুটা বেশি সময় লাগে। প্রায় চার বছর ধরে ২০ জন নির্মাণশিল্পীর প্রচেষ্টায় ২০২২ সালে প্রতিমাটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। পাথর, সিমেন্ট, রড ও বালু দিয়ে নির্মিত প্রতিমাটির উচ্চতা প্রায় ২৩ ফুট। তপ্তকাঞ্চন বর্ণের এই সহস্রভুজা দুর্গার প্রতিমায় ওই বছর থেকেই দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
পুলক সোম বলেন, ‘২০২২ সালের মহাষষ্ঠীতে তপ্তকাঞ্চন বর্ণের সহস্রভুজা দেবীদুর্গার মূল আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে প্রতিমাটির স্থায়ী প্রতিষ্ঠা হয়। এরপর থেকে এখানে নিয়মিত দেবী দুর্গার পূজা হয়ে আসছে।’
কাদিপুর শিববাড়ির ইতিহাস সম্পর্কে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত নানা কাহিনি রয়েছে। লোকমুখে শোনা যায়, এই বাড়ির প্রয়াত অনঙ্গ কুমার সোম ছিলেন জমিদার বংশের সন্তান। তার বংশের এক পূর্বপুরুষ বাড়ির দিঘির পাড়ে একটি বেলগাছের নিচে আসন পেতে নিয়মিত শিবের সাধনা করতেন। তবে তখন বাড়িতে কোনো শিবলিঙ্গ ছিল না। পরবর্তী সময়ে অনঙ্গ কুমার সোমের ছেলে প্রয়াত অজিত কুমার সোমের বংশধর পুলক সোমের তপস্যার সূত্রে ১৪০৫ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসের ১৮ তারিখে একটি শিবলিঙ্গ পাওয়া যায় বলে প্রচলিত রয়েছে। এটি প্রায় ১৫০ বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হয়। পরে পুরোনো মন্দির সংস্কার করে সেখানে শিবলিঙ্গটি স্থাপন করা হয়। শিবলিঙ্গ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে দূরদূরান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ তা দর্শনে আসতে শুরু করে।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, জমিদারি প্রথার বিলুপ্তির পর একসময়ের প্রভাবশালী এই জমিদার পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে। ফলে দীর্ঘ প্রায় ৩১ বছর দুর্গাপূজায় প্রতিমার পরিবর্তে ঘট স্থাপন করে পূজা করা হয়। এতে ঐতিহ্যবাহী পূজার আগের জৌলুস অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়। তবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিশ্বাসের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সাল থেকে মন্দিরের পূজা-পার্বণে আগের জৌলুস ফিরতে শুরু করে।
মন্দিরে আসা কয়েকজন পুণ্যার্থী জানান, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে কুলাউড়ার কাদিপুর শিববাড়ি একটি বিশেষ আকর্ষণীয় ধর্মীয় উপাসনালয়। দুর্গাপূজার সময় ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্দিরের নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও বিশাল প্রতিমা তাদের মুগ্ধ করে।
শিববাড়ির বংশধর আচার্য পুলক সোম বলেন, ‘শাস্ত্রে আছে, যে বাড়িতে মায়ের পূজা একবার সুন্দরভাবে হয়, ১০০ বছরের মধ্যে সেই বাড়িতে মা আবার ফিরে আসেন।’
আরও পড়ুন
পর্যটক বরণে প্রস্তুত কুয়াকাটা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বসে সমুদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন ঘুরতে আসা পর্যটকরা। গত শুক্রবার কুয়াকাটা সৈকতের শূন্য পয়েন্টে।ছবি: খবরের কাগজ
-->২০ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে দুর্গাপূজার ছুটি। দীর্ঘ ছুটিতে পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে অনেকেই ছুটবেন দেশের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে। এ উপলক্ষে পর্যটকদের বরণে প্রস্তুত দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটা। এবার দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে দুই দিনব্যাপী কুয়াকাটা কার্নিভাল-২০২৬। এটি ২৩ ও ২৪ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া পর্যটকদের বরণে চলছে সাজসজ্জা, প্রচার-প্রচারণা ও নানা আয়োজনের প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তারকা ও উন্নত মানের হোটেলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুয়াকাটায় প্রায় ৩০০টি হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট, দেড় শতাধিক খাবারের হোটেল এবং পর্যটনকেন্দ্রিক অন্তত তিন হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এখন পর্যটক বরণের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কার্নিভাল ঘিরে সৈকতজুড়ে চলছে সাজসজ্জা ও প্রস্তুতির কাজ। কার্নিভালের উদ্বোধনী দিনের অন্যতম আকর্ষণ কুয়াকাটা জিরো পয়েন্ট থেকে গঙ্গামতী সৈকত পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার বিচ ম্যারাথন। এ ছাড়া দেশবরেণ্য ও স্থানীয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঘুড়ি উৎসব এবং তারকাদের অংশগ্রহণে বিচ ক্রিকেটসহ নানা আয়োজন থাকছে। এসব আয়োজন বাস্তবায়নে চলছে সমন্বিত প্রস্তুতি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, দুর্গাপূজার ছুটি ও কার্নিভাল ঘিরে এবার জমে উঠবে কুয়াকাটার পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
এ বিষয়ে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. শামীমুজ্জামান জানান, ২৩ ও ২৪ অক্টোবরের কুয়াকাটা কার্নিভাল ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি।
আরও পড়ুন
সরেজমিনে হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উন্নত মানের হোটেলগুলোতে ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে।
কুয়াকাটার আধুনিক তারকা মানের হোটেল প্রেসিডেন্ট পার্কের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এমজি মোর্শেদ খান বলেন, ‘আমদের হোটেলের সব কক্ষ ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং রয়েছে। আগত অতিথিদের সর্বোচ্চ সেবা দিতে আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি।’ কুয়াকাটার তারকা মানের হোটেল সিকদার ভিলাস অ্যান্ড রিসোর্টের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক শাহিন আলম বলেন, ‘আমাদের হোটেলের ৮০ শতাংশ কক্ষ ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুকিং হয়ে গেছে। ২১ ও ২২ অক্টোবরের জন্য কোনো কক্ষ খালি নেই।’
কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, ‘দুর্গাপূজা ও কার্নিভাল উপলক্ষে কুয়াকাটায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় ১০৫টি হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। সব মিলিয়ে কুয়াকাটায় প্রায় ৩০০টি হোটেল-মোটেল রয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের আবাসনের ব্যবস্থা করা সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাঝারি ও ছোট হোটেলে কিছু কক্ষ খালি রয়েছে, যেগুলোতে সরাসরি এসেও পর্যটকরা বুকিং দিতে পারবেন। আমদের প্রত্যাশা, দুর্গাপূজার ছুটি ও কার্নিভালকে ঘিরে কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন ঘটবে।’
এদিকে পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা, চিকিৎসা, পরিবহন, পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল পুলিশের কয়েক শ সদস্য পর্যটকদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন।
কুয়াকাটা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পরিবহন খাতেও বিশেষ ব্যবস্থাপনা থাকবে। পর্যটক-দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় অস্থায়ী টয়লেট ও ওয়াশরুমের ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন
হবিগঞ্জে ৩৪ শতাংশ যানবাহনের ফিটনেস নেই
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩০ এএম
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফিক
-->হবিগঞ্জে নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই ফিটনেসবিহীন। এসব যানবাহনের বেশির ভাগই প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের পাশাপাশি অদক্ষ চালক ও ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতায় সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে ফিটনেসবিহীন যানবাহন থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী, জেলায় নিবন্ধিত মোট ৩১ হাজার ৮৬১টি মোটরযানের মধ্যে ১০ হাজার ৫০৪টির বৈধ ফিটনেস নেই। অর্থাৎ, নিবন্ধিত মোট যানবাহনের ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশই ফিটনেসবিহীন।
বিআরটিএর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে অটোরিকশা। জেলায় ৯ হাজার ৫৩৯টি বৈধ অটোরিকশার কোনো ফিটনেস নেই। এ ছাড়া ১৭৩টি হিউম্যান হলার, ১৭৩টি পিকআপ, ১৩১টি ট্রাক ও ৯৩টি বাস ফিটনেসবিহীন অবস্থায় রয়েছে। এর বাইরে টেম্পো, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনও রয়েছে এ তালিকায়। এমনকি রোগী পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১০টি অ্যাম্বুলেন্সেরও বৈধ ফিটনেস নেই।
বিআরটিএর হিসেবে, হবিগঞ্জে নিবন্ধিত মোট ৩১ হাজার ৮৬১টি মোটরযানের মধ্যে ১০ হাজার ৫০৪টির ফিটনেস নেই। শতকরার হিসাবে যা ৩৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ নিবন্ধিত প্রতি তিনটি যানবাহনের একটি ফিটনেসবিহীন।
আরও পড়ুন
এসব যানবাহনের একটি অংশ নিয়মিত মহাসড়ক, আঞ্চলিক সড়ক ও শহরের বিভিন্ন সড়কে চলাচল করছে। বিশেষ করে অটোরিকশার সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফিটনেসবিহীন যানবাহনের তালিকাতেও এ ধরনের যানবাহন সবচেয়ে বেশি। শহর ও উপজেলা পর্যায়ে যাত্রী পরিবহনে এসব যানবাহন ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হওয়ায় এগুলো নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক পুরোনো যানবাহন নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করছে। এগুলোর কোনোটি চলাচলের সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে মাঝপথে বিকল হয়ে যায়। এতে যানজট ও ভোগান্তি তৈরি হয়।
হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ব্যবসায়ী আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘হবিগঞ্জে যে যানবাহনগুলো চলাচল করছে, তার অধিকাংশেরই ফিটনেস নেই। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহারের কারণে এগুলো ত্রুটিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ গাড়িতে ব্রেক, স্টিয়ারিং, টায়ার, লাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশে ত্রুটি দেখা যায়। যে কারণে এসব যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।’
আজমিরীগঞ্জের যাত্রী শিহাব মিয়া বলেন, ‘ইদানীং হবিগঞ্জে দুর্ঘটনার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। এর প্রধান কারণ অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন। রাতে অনেক গাড়িতে হেডলাইট থাকে না, সিগন্যাল লাইটও থাকে না। আবার ফিটনেস না থাকার কারণে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ভয়াবহ আকার ধারণ করে। প্রায় প্রতিটি দুর্ঘটনাতেই দেখা যায়, যানবাহনগুলো একেবারে ধুমড়ে-মুচড়ে যায়।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জাল সোহেল বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এর প্রধান কারণ পরিবেশদূষণ। পুরোনো যানবাহনগুলো শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে না, এগুলো থেকে অতিরিক্ত কালো ধোঁয়াও নির্গত হচ্ছে। এতে বায়ুদূষণ বাড়ার পাশাপাশি সড়কে চলাচলকারী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে শহর ও ব্যস্ত সড়কগুলোতে অতিরিক্ত ধোঁয়া পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
তিনি বলেন, ‘এ জন্য যানবাহনের চালক-মালিকরা যতটা দায়ী, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোও ঠিক ততটাই দায়ী। কারণ, এসব বিষয়ে তারা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ ছাড়া চালকদের দক্ষতা ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার বিষয়টিও সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।’
এ ব্যাপারে বিআরটিএ হবিগঞ্জের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত) আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আমাদের অনুমোদিত মোটরযানগুলোর মধ্যে যেগুলোর ফিটনেসের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, আমাদের সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের কাছে একটি এসএমএস যায়। ফলে সংশ্লিষ্টরা ফিটনেস নবায়ন করে নিতে পারেন। যারা ফিটনেস নবায়ন করছেন না, সেই যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের ফিটনেস নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
হবিগঞ্জের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম খান বলেন, ‘ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে অনেক যানবাহনের মালিক বা চালক নিয়মিত ফিটনেস নবায়ন করছেন। এটা আমাদের অভিযানের সুফল। এ ছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে অভিযান জোরদারের নির্দেশনা রয়েছে। আমরা সেই অনুযায়ী অভিযান আরও জোরদারের চেষ্টা করছি।’
আরও পড়ুন
বেহাল ১৭ পলিনেট হাউস পাবনায় বিফলে কোটি টাকার প্রকল্প
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
চল হয়ে পড়া পলিনেট হাউসের ভেতরে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চাষি নজরুল ইসলাম। সম্প্রতি সাঁথিয়া উপজেলার মাধপুর গ্রাম। ছবি: খবরের কাগজ
-->কৃষির আধুনিকায়নে পাবনায় নির্মাণ করা হয়েছিল ১৭টি পলিনেট হাউস। প্রতিটি তৈরিতে খরচ হয়েছে গড়ে ২৪ লাখ টাকা। তবে চার বছরেও কৃষকদের সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সরকারি প্রকল্পের পলিনেট হাউসগুলোর প্রায় সব কটিই বর্তমানে অকেজো ও বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। অতিরিক্ত তাপে গাছ ও চারা নষ্ট হচ্ছে। কারিগরি ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনায় লোকসানে পড়েছেন চাষিরা।
রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বিগত সরকারের আমলে এসব হাউস নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি হাউস তৈরিতে গড়ে প্রায় ২৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। পাবনার ঈশ্বরদী ও সাঁথিয়া উপজেলার কয়েকটি হাউস ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ হাউসের পলিথিন ছিঁড়ে গেছে। লোহার কাঠামো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে, কোথাও খালি জমি পড়ে আছে। ভেতরে কোনো ফসল নেই। অনেক চাষি বাধ্য হয়ে সেখানে আঙুরগাছ লাগিয়ে রেখেছেন।
শুরুতে আধুনিক প্রযুক্তিতে সারা বছর ক্যাপসিকাম, টমেটোসহ উচ্চমূল্যের ফসল চাষের আশায় ছিলেন কৃষকরা। তবে চার বছরেও তারা কাঙ্ক্ষিত সুফল পাননি।
আরও পড়ুন
সাঁথিয়ার চরপাড়া গ্রামের নায়েব আলীর পলিনেট হাউস নেওয়ার আগ্রহ ছিল। তবে মাধপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম ফকিরের হাউসের বেহাল অবস্থা দেখে তিনি আর আগ্রহী নন।
নজরুল ইসলাম ফকিরের জমিতে স্থাপিত পলিনেট হাউসের ওপরের নেট ঝড়ে ছিঁড়ে গেছে। বৃষ্টির পানি জমে পুরো এলাকা জলমগ্ন। তার অভিযোগ, হাউসের ভেতরে তাপমাত্রা এত বেশি থাকে যে, সকাল ১০টার পর কাজ করা যায় না। চারা ও শাকসবজিও তাপে ঝলসে যায়।
ঈশ্বরদী উপজেলার বখতারপুর গ্রামের চাষি নজরুল ইসলাম সরকারও পলিনেট হাউস নিয়ে বড় বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘ওই জমি অন্য কারও কাছে ইজারা দিলে বছরে এক লাখ টাকা পাওয়া যেত। হাউসের ভেতরে তাপমাত্রা এত বেশি থাকে যে কোনো ফসল টিকতে পারে না। বাধ্য হয়ে পলিথিন খুলে ফেলেছি। এখন বাইরে সাধারণ পদ্ধতিতে ফসল চাষ করছি।’
একই উপজেলার মহাদেবপুর গ্রামের চাষি শাহিনুজ্জামান গ্রীষ্মকালীন টমেটো ও করলা চাষ করে কোনো সফলতা পাননি। আগস্টের শুরুর দিকে চারা লাগালেও গাছের কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি। কিছুই হচ্ছে না দেখে তিনি বাধ্য হয়ে হাউসের এক পাশে আঙুরগাছ লাগিয়ে রেখেছেন।
পাশের গ্রাম জগন্নাথপুরের বেলি বেগমের হাউসে গিয়ে দেখা গেছে, পালংশাক ও টমেটো চাষ করা হলেও পাতাগুলো বিবর্ণ। এক পাশের পলিথিন সম্পূর্ণ খুলে দেওয়ার পর সেখানকার শাকের অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছে। সামগ্রিকভাবে পুরো প্রকল্পটিতে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কথা জানান তারা।
হাউসের ভেতরে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরাও সমস্যায় পড়ছেন। শ্রমিক বাবুল হোসেন, আজগর আলী ও হাসু খাঁ জানান, সকাল ১০টার পর অতিরিক্ত গরমে সেখানে কাজ করা যায় না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকা মিস্ট ও ড্রিপ সেচব্যবস্থার বেশির ভাগই অচল। ভূগর্ভস্থ পানিতে অতিরিক্ত আয়রন ও খর পানির কারণে যন্ত্রগুলো দ্রুত নষ্ট হয়েছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। তাদের অভিযোগ, নিম্নমানের উপকরণ ও কম মাইক্রোনের পলিথিন ব্যবহারের কারণে হাউসগুলো টেকসই হয়নি। চুক্তি অনুযায়ী, পাঁচ বছর রক্ষণাবেক্ষণের কথা থাকলেও এক বছর পর আর কেউ খোঁজ নেননি।
বাংলাদেশ ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পাবনার খ্যাতিমান চাষি শাহজাহান আলী বাদশা জানান, তিনি নিজেও এ প্রকল্পের ভুক্তভোগী। শীতপ্রধান দেশের আদলে তৈরি হাউস বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করতে তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বায়ু চলাচল নিয়ন্ত্রণ জরুরি। ফসল ভেদে প্রয়োজন অনুযায়ী তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের আলাদা ব্যবস্থা থাকা দরকার। কিন্তু হাউসগুলোতে প্রায় সব ফসলের জন্য একই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলার জাতীয় পদকপ্রাপ্ত নারী উদ্যোক্তা বেইলি বেগমের অভিযোগ, প্রতিশ্রুত মানের উপকরণ দেওয়া হয়নি। নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ও কারিগরি ত্রুটিতে কৃষকরা লোকসানে পড়েছেন। জমিতে সাধারণ সবজি চাষ করে বা জমি লিজ দিয়ে যে আয় হতো, সে হিসাবেও তারা অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে প্রকল্প পরিচালক এস এম হাসানুজ্জামান দাবি করেন, কৃষকরা পরিশ্রম করতে চান না এবং পরামর্শ না মানায় সফল হননি।
আরও পড়ুন
নাটোরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার নাটোরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) তিনি শহরের শ্রী শ্রী বৃন্দাবন বিহারী জিউ আখড়া পূজামণ্ডপ, বৈকালি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
এ সময় সহকারী হাইকমিশনার বলেন, ‘নাটোরে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে পূজা উদযাপন হচ্ছে। নাটোরের মানুষ অনেক শান্তিপ্রিয়। আমি অভিভূত।’
আরও পড়ুন
এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ ও নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, ‘স্বাধীনতার পরে এমন উৎসবমুখর পরিবেশে আর কখনো পূজা উদযাপন হয়নি। গতবারের চেয়ে এবার অতিরিক্ত ৩৫টি মণ্ডপে পূজা আয়োজন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমরা বাংলাদেশি এটাই আমাদের পরিচয়। পূজা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আপনাদের সঙ্গে থাকবো।’
মণ্ডপ পরিদর্শনকালে জেলা বিএনপির নেতা-কর্মী এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
রিফাত/
