আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন প্রশাসনে ফের কর্মী নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যেই পদ ছাড়লেন কেটি জাকারিয়া।
তাঁর আইনি যোগ্যতা এবং প্রথম সাংবাদিক বৈঠকে পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পরেই এই ঘটনা সামনে এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যেই জানিয়ে দেন, তিনি জাকারিয়াকে পদটি নিয়ে ‘পুনর্বিবেচনা’ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি জাকারিয়াকে জানিয়েছিলেন যে এই কাজ করার কোনও বাধ্যবাধকতা তাঁর নেই। তাঁর জায়গায় থাকলে তিনি নিজেও পদটি নিয়ে নতুন করে ভাবতেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মতে, কেটির সঙ্গে অত্যন্ত অন্যায় করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সমালোচনার কারণে তাঁকে অযথা চাপের মধ্যে পড়তে হয়েছে।’ উল্লেখ্য, প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাকারিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।
দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছেন তিনি। পাশাপাশি, ফক্স নিউজ ও নিউজম্যাক্সের মতো রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমে ভাষ্যকার হিসেবেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছিলেন।
কিন্তু এখনও পর্যন্ত জাকারিয়া বা হোয়াইট হাউসের তরফে এমন কোনও প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি, যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে তিনি আমেরিকার কোনও অঙ্গরাজ্যে আইনজীবীদের বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
চিনে একটি বড় আইন সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতার কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তবে সেখানকার আইনি যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংবাদমাধ্যম ‘পপুলার ইনফরমেশন’-এর একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, জাকারিয়ার কোনও অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্স থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এরপর সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, জাকারিয়া কোথায় বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন? সেই সময় ট্রাম্প জাকারিয়াকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেন। জাকারিয়া বলেন, ‘আমি যখন চিনে চলে যাই…’।
কিন্তু সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি হেলিকপ্টার মেরিন ওয়ানের শব্দে তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট শোনা যায়নি। তিনি ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন তা কারোর কাছেই পরিষ্কার নয়।
কিন্তু চিনের আইনি যোগ্যতা নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, চিনের অত্যন্ত কঠিন ন্যাশনাল ইউনিফায়েড লিগ্যাল প্রফেশনাল কোয়ালিফিকেশন পরীক্ষায় কেবল চিনের নাগরিকরাই বসতে পারেন।
সেখানে জাকারিয়া মার্কিন নাগরিক হয়ে কীভাবে চিনের পরীক্ষায় বসলেন তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। জাকারিয়ার শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউস একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।
তাতে জানানো হয়, ২০০৭ সালে পেপারডাইন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি এবং ২০১১ সালে পেপারডাইন কারুসো স্কুল অব ল থেকে আইন নিয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য এবং তাঁর লিঙ্কড-ইন প্রোফাইলেও এর উল্লেখ রয়েছে। জাকারিয়া দাবি করেন, তিনি আন্তর্জাতিক লেনদেন সংক্রান্ত আইনে কাজ করেছেন এবং সেই কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তাঁর ছিল।
তবে অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর মেলেনি। জাকারিয়ার নিয়োগ ঘিরে বিতর্কের আরেকটি কারণ তাঁর সাম্প্রতিক কর্মজীবন।
লিঙ্কড-ইন প্রোফাইল অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন থেকে তিনি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপে সিনিয়র কমিউনিকেশনস অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছিলেন।
তার আগে বছরের শুরুর দিকে প্রায় দু’মাস মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরে জনসংযোগ বিভাগের ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদে ছিলেন তিনি। ট্রাম্পের সংস্থায় মাত্র কয়েক মাস কাজ করার পরেই তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা করা হয়েছিল।
কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই তাঁর পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। তার পরেই তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা ও আইনি যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।
https://youtu.be/JwFdq_tA9cE?si=OsjyrjXCkRVx0zUN
প্রেস সেক্রেটারির পদ থেকে বিদায়ের পরেও ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন জাকারিয়া। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘দয়ালু, উদার, চিন্তাশীল, উৎসাহী এবং পরিশ্রমী’ বলে উল্লেখ করে প্রশাসনে কাজ করার সুযোগকে সম্মানের বলে জানিয়েছেন তিনি।
