কালবেলা · সাধারণ
চকরিয়া থেকে ইয়াবা এনে বরিশালে বিক্রি, সস্ত্রীক চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য আটক
২৩/১০/২০২৬

বরিশালে ইয়াবা কারবারের অভিযোগে চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের দেহ ও ভাড়া বাসায় তল্লাশি চালিয়ে ২ হাজার ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ইয়াবা এনে বরিশালে বিক্রি করতেন ওই দম্পতি। এর আগে গত মার্চেও ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন স্বামী বেলাল হোসেন রাতুল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে নগরীর সদর রোড এলাকা থেকে রাতুল ও তার স্ত্রী লামিয়া আক্তারকে আটক করা হয়। পরে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে নগরীর নথুল্লাবাদসংলগ্ন ফিশারী রোড এলাকার তাদের ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে আরও ইয়াবা ও টাকা উদ্ধার করা হয়।
আটক রাতুল ও লামিয়া বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার বিহারীপুর এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল ও এয়ারপোর্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাতুল ও লামিয়াকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ২৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের পরিচয় ও বাসার ঠিকানা গোপন রাখেন বলে দাবি পুলিশের। পরে কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) যাচাই করে তাদের পরিচয় ও ঠিকানা নিশ্চিত করা হয়।
ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, সিডিআরের তথ্য অনুযায়ী, রাতুল ও লামিয়া নগরীর নথুল্লাবাদসংলগ্ন ফিশারী রোড এলাকার একটি বহুতল ভবনে ভাড়া থাকতেন। শুক্রবার সকালে এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের সহযোগিতায় ওই বাসায় তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে আরও ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা এবং নগদ এক লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, রাতুল আগে সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। মাদক-সংশ্লিষ্টতার কারণে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়। সবশেষ চলতি বছরের মার্চ মাসে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে বরিশালে খুচরা বিক্রি করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবরও চকরিয়ায় গিয়েছিলেন রাতুল।
ওসি আরও জানান, প্রথম দফায় ২৩০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা কোতয়ালী থানা এলাকায় এবং পরের দফায় ১ হাজার ৮০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা এয়ারপোর্ট থানা এলাকায় ঘটেছে। এ কারণে দুই থানায় পুলিশ বাদী হয়ে পৃথক দুটি মামলা করেছে। পরে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রাতুল ও লামিয়াকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗