বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ ছেলে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনার পর এই প্রথমবার প্রকাশ্যে এলেন। মুম্বাইয়ে প্রয়াত সংগীতশিল্পী বাপ্পি লাহিড়ির নামে রাস্তার নামকরণ ও ফলক উন্মোচনের অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সাদা পোশাকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এ অভিনেতা। সেই অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে দেখা গেছে অভিনেতা সুনীল শেঠি, পুনম ঢিলোঁ, শরদ কেলকর ও গুলশান গ্রোভারকেও।
দীর্ঘ ৪৫ বছর প্রয়াত সংগীতশিল্পী ও সুরকার বাপ্পি লাহিড়ি মুম্বাইয়ের সেই এলাকার সঙ্গে সম্পর্ক এবং ভারতীয় সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে তার নামে। তবে জ্যাকি শ্রফের এই প্রকাশ্য উপস্থিতি নজর কেড়েছে অন্য কারণে। পরিবেশ নিয়ে বরাবর সচেতনতার বার্তা দিয়ে থাকেন এ বর্ষীয়ান অভিনেতা। তাই হাতে একটি চারাগাছ নিয়েই তিনি উপস্থিত হন। তবে ছেলের এমন পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে নজর কাড়ার কারণ অবশ্য জানা যায়নি। তাই এ ঘটনায় তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে। একটি মোটরবাইকে চেপে এসে তারা গুলি চালায় বলে অভিযোগ। সেই সময়ে গাড়িতে ছিলেন টাইগার শ্রফ। একটি ফুটবল খেলার মাঠ থেকে ফেরার পথে এ ঘটনা ঘটে। তবে তার গাড়ির চালক এবং এক পথচারী আহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এ ঘটনার পর টাইগার শ্রফের খোঁজখবর নিতে তার বাড়িতে ছুটে যান মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একনাথ শিন্দে বলেন, 'আমি মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্তদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশ একাধিক বিশেষ দল গঠন করেছে।'
তিনি বলেন, 'এ মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার মুম্বাই এবং শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা। তিনি তারকা হোন বা সাধারণ নাগরিক— তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশ এবং সরকারের দায়িত্ব।'
কোনো রকম বরদাশত করা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের এ উপমুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'এ বিষয়ে কোনো গাফিলতি সহ্য করা হবে না। যে গ্যাংয়ের নামই উঠে আসুক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'
এদিকে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে মুম্বাই পুলিশ। হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে, কী উদ্দেশ্যে ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। মুম্বাই থেকে দিল্লির দিকে যাওয়ার পথে রাজস্থানের কোটায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে মধ্যে রয়েছে ১৮ বছরের যুবক রেহান। হরিয়ানার সোনিপত জেলার বাসিন্দা তিনি। অন্য দুজনের মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার এক নাবালক, যার বয়স ১৭ বছর। অন্যজনের নাম হৃতিক কুমার ওরফে রোশন। ২২ বছরের ওই যুবক মুম্বাইয়ে র্যাপিডো চালায়।