Published on
:
2 min read
‘মণ্ডপের অবস্থা খুব খারাপ। মণ্ডপ ভেঙে গিয়েছে, এখনই আপনারা বেরিয়ে যান...’, মাইকে ঘোষণা হতেই হুড়োহুড়ি শুরু দর্শনার্থীদের। মাত্র দুই হাত চওড়া প্রবেশ পথে থিকথিক করছে মানুষের মাথা। হাওয়া গলারও জায়গা নেই। সবাই এগোতে চায়। ধাক্কাধাকিতে মহিলা-শিশুর আর্তনাদে কান পাতা দায়। ঠাসাঠাসির অবস্থায় বৃষ্টি থেকে বাঁচতে আরও একদল মানুষ ঠেলে-গুঁতিয়ে মণ্ডপে ঢোকার চেষ্টা করতেই হুমড়ি খেয়ে পড়লেন কয়েকজন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োয় ধরা পড়েছে চোরবাগান সর্বজনীনের বিপর্যয়ের মুহূর্ত। কী ভাবে মৃত্যুকূপ হয়ে উঠেছিল চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপ। যদিও ভিডিয়োগুলির সত্যতা যাচাই করে দেখেনি এইসময় অনলাইন।
ঠাসা ভিড়ে ধাক্কাধাক্কি
চোরবাগানের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। আহত ১৪ জন। সেই বিপর্যয়ের মুহূর্ত ধরা পড়েছে একাধিক ভিডিয়োয়। দিব্যাংশু গুপ্তা নামে এক ব্যক্তির পোস্ট করা ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, কতটা সংকীর্ণ ও ভয়াবহ ছিল মণ্ডপের প্রবেশপথের পরিস্থিতি। মাথার উপর নীচু ছাদ, দু’পাশে ব্যারিকেড—মাঝখানের সরু পথটুকু পাশাপাশি দুই-তিন জনের বেশি চলা দায়। কিন্তু সেখানেই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মানুষ। কারও সামনে এগোনোর জায়গা নেই, পিছিয়ে যাওয়ারও উপায় নেই। কাঁধে কাঁধ, বুকের সঙ্গে পিঠ ঠেকে রয়েছে অন্যের। এমন পরিস্থিতিতে সামান্য ধাক্কাও যে কতটা ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, তা কল্পনা করাও কঠিন। ভিডিয়োয় মহিলা ও শিশুদের সাহায্যের জন্য চিৎকারই বুঝিয়ে দিচ্ছিল কতটা ভয়ঙ্কর ছিল পরিস্থিতি। প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এমন পরিস্থিতিতে বাইরে থেকে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মানুষে ধাক্কা দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করতেই পড়ে যান সামনের মানুষ। তাতেই পদপিষ্ট হন অনেকে।
মাইকে ঘোষণা, তার পরেই আতঙ্ক?
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৪০ মিনিটে চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপের বেরোনোর গেটের কাছে বিপর্যয় ঘটে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আরও একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, নারকীয় পরিস্থিতি মণ্ডপের এগজ়িট পয়েন্টেও। বৃষ্টিতে বহু মানুষ আটকে ছিলেন সেখানে। বের হতে পারছিলেন না। এমন সময়ে মাইকে উদ্যোক্তাদের ঘোষণা শোনা যায়। ঘোষণায় বলা হয়, ‘এগজ়িট গেট খুলে দাও। মণ্ডপের দিকে কেউ আসবেন না। মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যান। মণ্ডপের অবস্থা খুব খারাপ। মণ্ডপ পড়ে যাচ্ছে। মণ্ডপ ভেঙে গিয়েছে, বেরিয়ে যান।’ প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, এতেই অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি সামনের মানুষকে টপকে অনেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতেই দুর্ঘটনা ঘটে। সংকীর্ণ রাস্তায় ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে পড়ে যান।
🚨 More shocking visuals coming from Chorbagan Sarbojonin Durga Puja pandal when the mass stampede happened ⚠️ People can been seen crying helpless. A wrong announcement led to confusion & panic 😔 This is so painful. I am speechless. Om Shanti 🙏🏻 P.S - Collected Videos https://t.co/6ay29YbH1t
— Dr. Abhinaba Pal (@drabhinabapal7) October 17, 2026
প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান থেকে জানা গিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে মাটিতে পড়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে উঠে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে পড়ে। চারদিকে ভিড়, মাথার উপর বৃষ্টি, সামনে এগোনোর জায়গা নেই—আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য এই পরিস্থিতিই যথেষ্ট ছিল।
বিপর্যয়ের পরেও অবস্থা ছিল সঙ্গীন
আরও একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, প্যান্ডেলের বের হওয়ার জায়গায় আলো নেই। ধাক্কাধাক্কিতে অনেকে কান্নাকাটি করছেন। কেউ মাটিতে বসে পড়েছেন, কেউ অচেতন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। তাঁদের ঘিরে উদ্বিগ্ন মানুষের ভিড়। আহতদের কাউকে পাঁজাকোলা করে, কাউকে চ্যাংদোলা করে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ‘ডক্টর অভিনব পাল’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে শেয়ার করা হয়েছে এই ভিডিয়োগুলি।
যে মণ্ডপে উৎসবের আনন্দে সকলের মেতে থাকার কথা, সেখানেই কয়েক মুহূর্তে ঘনিয়ে এল মৃত্যুর ছায়া। ভিডিয়োর সেই গাদাগাদি ভিড়, বেরোনোর পথ খুঁজে না পাওয়ার অসহায়তা এবং সাহায্যের আর্তি—চোরবাগানের বিপর্যয়কে আরও একবার চোখের সামনে এনে দিয়েছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় মুহূর্তেই এই ঘটনায় উৎসবের রং ফিকে হয়ে নামল আঁধার। উৎসবে মাততে গিয়ে শব হয়ে বাড়ি ফিরলেন ১৯ জন সহনাগরিক। ২৫টি পরিবারের জন্য চিরজীবনের জন্য আতঙ্কের অপর নাম হয়ে দাঁড়াল ঠাকুর দেখা। এই বিপর্যয়ের দায় কার, খুঁজতে এই ভিডিয়োগুলিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
