ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে সাংবাদিকবাহী মাইক্রোবাস থামিয়ে পৌরসভার নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান বিপ্লবের বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় যুবদল।
এর আগে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নবীনগর উপজেলা সদরের আলিয়াবাদ মোড়ের গোল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জেলা সদরের কয়েকজন জাতীয় গণমাধ্যমকর্মী সংবাদসংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মাইক্রোবাসে করে নবীনগরের ধরাভাঙ্গা গ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথে আলিয়াবাদ গোল চত্বরে পৌঁছালে সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডের ইজারাদারের লোকজন গাড়িটি থামিয়ে ৪০ টাকা টোল দাবি করেন।
এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে টোল আদায়কারীদের বাগবিতণ্ডা হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্ট্যান্ডটির ইজারা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত স্থানীয় যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান বিপ্লব। সাংবাদিকদের অভিযোগ, সেখানে গিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন, ইজারার টোলের নামে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করেন এবং মারতে উদ্যত হন।
পরে সাংবাদিকেরা বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাকে জানিয়ে প্রতিকার চান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসাদুজ্জামান বিপ্লব। তিনি বলেন, ‘এসব সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হাস্যকর অভিযোগ। আমি নই, মূলত জেলার সাংবাদিকেরাই আমার সঙ্গে মারাত্মক দুর্ব্যবহার করেছেন। একপর্যায়ে তারা আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এর ভিডিও রেকর্ডও আমার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।’
আগামীকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলন করে এসব ঘটনার তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরবেন বলে জানান তিনি।
যুবদল নেতা বিপ্লব আরো বলেন, ‘সাংবাদিকেরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে কেন্দ্রীয় যুবদল থেকে আমাকে শোকজ করিয়েছেন। যথাসময়ে শোকজের জবাবের সঙ্গে আমার নির্দোষিতার সব তথ্যপ্রমাণ কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতাদের কাছে জমা দেব।’
এ বিষয়ে নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ইজারা দেওয়া স্ট্যান্ডের সংশ্লিষ্ট গাড়ি ছাড়া ওই সড়কে চলাচলকারী অন্য কোনো গাড়ি থেকে ইজারার টোল আদায় করা যাবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইজারার টোল আদায় নিয়ে যেহেতু চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, তাই সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে আগামীকাল বা পরশুর মধ্যে ইজারা বাতিল করে দেব।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এম এ মান্নানের বক্তব্য জানতে শনিবার দুপুরে পক্ষ থেকে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
