যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রকাশিত সর্বশেষ মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ায় চলতি মাসে আবারও সুদের হার বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ অক্টােবর) দেশটির শ্রম বিভাগের প্রকাশিত ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, আগস্টে বার্ষিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। সেপ্টেম্বরে মাসিক ভিত্তিতে ভোক্তামূল্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। খবর আল জাজিরার।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান এবং রাশিয়া-ইউক্রেনের উত্তেজনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ, যা মাসিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি। এক বছরের ব্যবধানে পেট্রোলের দাম বেড়েছে ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪ দশমিক ৩৩ ডলার। ডিজেলের দাম প্রতি গ্যালন ৬ দশমিক ২৯ ডলার। এদিকে আবাসন ব্যয় মাসিক ভিত্তিতে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। তবে সামগ্রিকভাবে খাদ্যপণ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল। মুদি দোকানে মুরগির মাংস, ফল ও সবজির দাম বাড়লেও দুধ ও গরুর মাংসের দাম কমেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে কম্পিউটার সফটওয়্যার ও আনুষঙ্গিক পণ্যের দামও এক বছরে ২৮ শতাংশ বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছে। গত মাসে ফেড সুদের হার শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করেছিল। চলতি মাসে আবারও সুদের হার বাড়ানো হবে, নাকি বর্তমান পর্যায়ে রাখা হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
সিএমই ফেডওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, সুদের হার অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ। আর শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ার সম্ভাবনা ৪৭ দশমিক ১ শতাংশ।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে পারে। রয়টার্স-ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে প্রায় ৭৮ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মূল্যবৃদ্ধির জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেছেন।
মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যায়। নাসডাক সূচক শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে যায়। তবে ডাও জোন্স সূচক প্রায় অপরিবর্তিত ছিল।
