সিবিএন ডেস্ক ;
কক্সবাজারের ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কে দিবালোকে দফায় দফায় গণডাকাতির ঘটনায় এক নারী ও তাঁর ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত মালামাল ও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের দাবি।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ঈদগাঁও ইউনিয়নের মধ্যম শিয়াপাড়ার ছাবের আহমদ ওরফে ডাকাত ছাবেরের স্ত্রী উম্মে হাফসা (৩৭) এবং তাঁর ছেলে মো. ফারুক (১৯)। ফারুক পেশায় দোকানকর্মী।
এ বিষয়ে ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মাজদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডাকাতির ঘটনায় গ্রেপ্তারসংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত থাকায় বিস্তারিত পরে জানাবেন।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, উম্মে হাফসার স্বামী ছাবের আহমদ একজন পেশাদার ডাকাত। তবে তাঁর ছেলে মো. ফারুক ও আরেক ছেলে দীর্ঘ পাঁচ-ছয় বছর ধরে ঈদগাঁও বাজারের একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতির ঘটনার দিনও দুই ভাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে কাজ করে বাড়ি ফেরেন। পরদিন মঙ্গলবার সকালে আবার দোকানে যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ছোট ছেলে আগে বেরিয়ে যান। ফারুকের যেতে কিছুটা দেরি হচ্ছিল। এ সময় হঠাৎ পুলিশ বাড়িতে এসে তাঁর বাবাকে না পেয়ে ফারুক ও তাঁর মাকে ধরে নিয়ে যায় বলে দাবি করেন স্বজনেরা।
স্বজনেরা আরও জানান, ছাবের আহমদকে ডাকাতির পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা বারবার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁদের দাবি, বাবার অপরাধের দায়ে তাঁর স্ত্রী ও ছেলেকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি নির্দোষ কেউ থাকলে তাঁকে হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঈদগাঁও ও রামু উপজেলার পাহাড়ি জনপদের মানুষের চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঈদগাঁও–ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় সকাল ও বিকেলে দুই দফায় গণডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সশস্ত্র ডাকাত দল অর্ধশতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে সর্বস্ব লুটে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে স্থানীয় পুলিশ।
