ন্যাটো জোটের কোনো সদস্যদেশের ওপর হামলা হলে তার জবাবে ‘যা যা প্রয়োজন, সবকিছুই’ করা হবে বলে কঠোর বার্তা দিয়েছেন জোটের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেউইচ। সম্ভাব্য আগ্রাসন মোকাবিলায় সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগ এবং হামলাকারীর যুদ্ধ পরিচালনার শক্তি অকার্যকর করে দেওয়ার বিষয়ে জোটের দৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে অনুষ্ঠিত ওয়ারশ নিরাপত্তা ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে গ্রিনকেউইচ বলেন, ন্যাটোর প্রতিক্রিয়া শুধু হামলা প্রতিহত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজনে প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ পরিচালনার সহায়ক ব্যবস্থাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে।
ইউরোপে রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতা, নাশকতা ও নিরাপত্তাঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে তাঁর এ বক্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তবে গ্রিনকেউইচ স্পষ্ট করেছেন, ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সংঘাত অনিবার্য কিংবা আসন্ন—এমনটি তিনি মনে করেন না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাটোর লক্ষ্য যুদ্ধ উসকে দেওয়া নয়; বরং শক্তিশালী প্রতিরক্ষা, সম্মিলিত সামরিক প্রস্তুতি ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে সম্ভাব্য আগ্রাসন ঠেকানো।
ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতি অনুযায়ী, জোটের কোনো সদস্যের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। এমন পরিস্থিতিতে আক্রান্ত দেশকে সহায়তা করতে অন্য সদস্যরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে।
ন্যাটোর এই অবস্থানের মূল বার্তা হলো, সদস্যদেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় জোট প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোনো আগ্রাসন হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কঠোর জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি থাকলেও, যুদ্ধের বিস্তার ঘটানো নয়, বরং কার্যকর প্রতিরোধের মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই জোটের ঘোষিত লক্ষ্য।
The post ন্যাটোর সদস্যদেশে হামলা হলে কঠোর জবাব: শীর্ষ সামরিক কমান্ডার appeared first on ভোরের চেতনা.
