ইয়েমেনের ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করার হুমকি দিয়েছে। গোষ্ঠীটির সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া জানিয়েছেন, পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনা ছাড়া সৌদি আরবের সব বিমানবন্দর তাদের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু।
হুথিদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী রিয়াদের পাশাপাশি পূর্বাঞ্চলের দাম্মাম বিমানবন্দর ও তেল শোধনাগারও তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছেন সামরিক মুখপাত্র।
গোষ্ঠীটি বলেছে, ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপ এবং রাজধানী সানার বিমানবন্দরে হামলার জবাব দিতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের ভেতরে হামলা আরও জোরদার করার হুমকিও দিয়েছে তারা।
রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার দায় স্বীকার করেছে হুথিরা।
রোববারের হামলায় বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে আগুন ধরে যায়। সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের নাগরিক।
এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে আরেকটি হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, রিয়াদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। তবে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে টার্মিনাল নম্বর ৪-এ আগুন লাগার পর তা নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সৌদি আরব
হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাজ্য বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং।
হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট কঠোর জবাব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জোটের পক্ষ থেকে হামলাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক
সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছাড়াও বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা দুজন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, হামলায় আহত এক ভারতীয় নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও হামলায় একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিও ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সানার বিমানবন্দরেও হামলার অভিযোগ
হুথি নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশনের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বিমান হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক শিশু নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
তবে সৌদি আরব এ হামলার খবর নিশ্চিত করেনি। বিবিসিও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ঘিরে নতুন উত্তেজনা
২০২২ সালে হুথি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে সেই সমঝোতা ভেঙে পড়ার পর অঞ্চলটিতে নতুন করে সহিংসতা বাড়তে থাকে। লোহিত সাগরের কৌশলগত এলাকাগুলো ঘিরেও সংঘাত তীব্র হয়েছে।
ইয়েমেনে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ এবং সৌদি আরবের দক্ষিণ সীমান্তে ইরানের প্রভাব নিয়ে রিয়াদের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক উদ্যোগের কথাও সামনে এসেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা ও সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছেন।
