আজকাল ওয়েবডেস্ক: মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভারত সফরের ঠিক মুখেই ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে সরব হলেন আমেরিকার ছয় আইনপ্রণেতা। প্রমিলা জয়পাল এবং ইলহান ওমরের পাশাপাশি জিম ম্যাকগভর্ন, রাশিদা তলাইব, এলিনর হোমস নর্টন ও জেসাস জি. 'চুই' গার্সিয়া যৌথভাবে রুবিওকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, তিনি যেন ভারত সফরে গিয়ে দিল্লিতে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমনপীড়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তোলেন। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞ্যানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভারতে যে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে, তাতে নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, নির্বিচারে আটক এবং দমনপীড়নের ধরন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এই প্রতিনিধিরা। শুধু ভারতেই নয়, আমেরিকার মাটিতে প্রতিবাদকারীদের ওপর নজরদারি চালানো এবং ভারতীয় দূতাবাস ও কনস্যুলেটের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে হেনস্থা করার অভিযোগও তোলা হয়েছে ওই চিঠিতে।
এই চিঠি আসার ঠিক আগের দিনই প্রমিলা জয়পালের করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়। ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি ভোটারের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কায় জয়পাল মন্তব্য করেছিলেন যে, এই ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আমেরিকার ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় কোয়াত্রা ও ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট বার্তা দেন। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাফ জানানো হয়, ভারতের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত ও ভিত্তিহীন, যা কার্যত অন্য একটি গণতান্ত্রিক দেশের নির্বাচনে সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।
তবে আইনপ্রণেতাদের চিঠিতে বিক্ষোভ দমনে পেলেট গান, কাঁদানে গ্যাস এবং লাঠিচার্জের ব্যবহারের পাশাপাশি আন্দোলন চলাকালীন ইন্টারনেট বন্ধ রাখার বিষয়গুলোকেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজির হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। এমনকি ওয়াশিংটন ডিসি, শিকাগো কিংবা সান ফ্রান্সিসকোয় আন্দোলনরত প্রতিবাদীদের ছবি তুলে ভয় দেখানোর ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পুরো পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ভারতের ওপর অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কোনও বিধিনিষেধ প্রযোজ্য কি না, তা খতিয়ে দেখার আর্জিও জানানো হয়েছে। ১৭ থেকে ২২ অক্টোবরের ভারত সফরে রুবিও যখন মুম্বই ও দিল্লির মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ব্যস্ত থাকবেন, তখন মার্কিন আইনপ্রণেতাদের এই জোরালো বার্তা কূটনীতির টেবিলে নিঃসন্দেহে এক বাড়তি উত্তাপ ছড়িয়ে দিল।
