গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, বিভিন্ন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
Published : 17 Oct 2026, 03:55 PM
Updated : 17 Oct 2026, 03:55 PM
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের-এনবিআর দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তারা হলে এনবিআরের কেন্দ্রীয় কর জরীপ অঞ্চলের অধীনে কর্মরত অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং উৎসে কর ব্যবস্থাপনা ইউনিটে কর্মরত অফিস সহায়ক মো. নুর মোহাম্মদ।
নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে পৃথক পৃথক অফিস আদেশে শনিবার তাদের সাময়িক বরখাস্তের কথা বলা হয়েছে।
ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন করে শুক্রবার বিকালে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পাঁচ সরকারি কর্মচারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করার কথা বলা হয়।
সেখানে এই দুইজন এনবিআরের কর্মী ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ বিপুল পরিমাণ স্ট্যাম্প, ব্যাংকের চেক, বিভিন্ন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র, প্রবেশপত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে চাকরি প্রত্যাশীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে বলে ভাষ্য এসআরবির।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ফেইসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করলেও সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিতে পারেননি।
গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদের ২৪২টি শূন্যপদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। এতে আবেদন করেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। বেলা ১১টায় পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও ওই দিন সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এসআরবি ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. রুবেল ইসলাম কাজ করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে।
এনবিআরের তিনজন হলেন কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীর (৩৮) এবং অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০)। আসাদুল ইসলাম (৩৩) নামে আরেক অফিস সহায়ক কাজ করেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে।
চাকরিপ্রত্যাশী দুজন হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৩) ও মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২)।
